প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫৪
দরিদ্রতার সাথে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ফুসনারা বেগম। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন তাহিরপুর এপি’র সহায়তা পাওয়ার আগে তার সংসার ছিল চরম অভাব—অনটনে জর্জরিত। স্বামীর অল্প আয়, ভাঙাচোরা ঘর ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মিলিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা ও দু’বেলা খাবার যোগানোই ছিল তার প্রতিদিনের সংগ্রাম। তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের বাসিন্দা ফুসনারা।
সংস্থাটির সহায়তায় একটি গরু, বিভিন্ন ধরনের আত্মবিশ্বাস মূলক প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরেই বদলে যেতে শুরু করে তার জীবন। যত্নসহকারে গরু লালন—পালনের পাশাপাশি তিনি ছাগল, হাঁস—মুরগি পালন ও সবজি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে আয় বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত আয় দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করান এবং সঞ্চয়ও শুরু করেন।
বর্তমানে ফুসনারার রয়েছে একটি গরু, একটি বকনা বাছুর, পাঁচটি ছাগল, ছয়টি চীনা হাঁস, একটি রাজা হাঁস ও দশটি মুরগি। তার পরিবারে এখন স্বচ্ছলতা ও স্বস্তির ছোঁয়া।
নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন অন্যদেরও এগিয়ে নিতে। স¤প্রতি তিনি এক হতদরিদ্র পরিবারের নারী কুসনারা বেগমের হাতে একটি ছাগল তুলে দেন। এসময় আনন্দঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি যেমন সহায়তা পেয়ে আজ স্বাবলম্বী হয়েছি, তেমনি অন্যদের জন্যও সুযোগ তৈরি করতে চাই। চেষ্টা ও ধৈর্য্য থাকলে সফল হওয়া যায়।
ফুসনারা বেগমের এই উদ্যোগ অন্যকে সফলতার পথে এগিয়ে দেওয়ার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এলাকার স্থানীয়রা বলেন,সঠিক সহায়তা ও দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি থাকলে দারিদ্র্যকে জয় করা সম্ভব, আর সেই জয় তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে তাহিরপুর ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার মহসিন খান বলেন,ফুসনারা এখন যে অন্যকে ছাগল উপহার দিয়ে সাহায্য করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাহিরপুর এপি সব সময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। তার উন্নয়নের জন্য প্রতি মাসে বিভিন্ন ধরনের আত্মবিশ্বাসমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, আর সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়েই সে নিজের জীবন বদলে দেখিয়েছে। আমরা চাই ফুসনারার মতো আরও মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের দরিদ্র মানুষের পাশে যেন দাঁড়ায়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন