প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:১৩
সুজলা-সুফলা, সবুজে ভরা ফসলের মাঠ। বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। আর কদিন পর হাওরের বুকজুড়ে থাকা ধানের শীষে সোনালী রঙ ধারণ করে ম ম গন্ধ বেরুবে। এই ধানে ভরবে কৃষকের গোলা। তবে এর মাঝেও আছে দুশ্চিন্তা। রয়ে যায় ফসল হারানোর ভয়-শঙ্কা।
আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে জেলার বোরো ফসল রক্ষায় প্রত্যেকবছর অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এবছর ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে ৭১৮টি প্রকল্পে অস্থায়ী বাঁধের কাজ। নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের সকল কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও সম্পূর্ণ হয় নি একটি বাঁধও। হাওরে কোথাও মাত্র শুরু হয়েছে মাটি ফেলার কাজ, কোথাও শেষ। বাকি রয়েছে কম্পেকশন, কার্পেটিং, ঘাস লাগানো সহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক কাজ। নির্ধারিত সময়ের পর নির্মিত দুর্বল বাঁধ পানির ধাক্কায় সহজেই ভেঙে যায়, ঝুঁকিতে থাকে ফসল।
.jpg)
বৃহস্পতিবার দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একটি বাঁধের কাজও শেষ হয় নি। কোনোটায় মাটি ফেলার কাজ চলছে, কোনোটায় শেষ হয়েছে। অধিকাংশ বাঁধের কম্পেকশন, ঘাস লাগানো সহ অন্যান্য সকল কাজ বাকি। দিরাই উপজেলার ৯১ (ক) বাঁধে চলছে মাটি ফেলার কাজ। বাঁধে শ্রমিক ছাড়া কাউকে পাওয়া যায় নি। বাঁধ থেকে পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির) সভাপতি বাবুল তালুকদারকে ফোনে জানতে চাওয়া হয় এক দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবেন কি না। জবাবে তিনি জানান, কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে, এখন এসও মেপে দেখার অপেক্ষায় তিনি। বাঁধের তথ্য- কমিটি ও এসও ছাড়া অন্য কারও জানার প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।
.jpg)
শাল্লা উপজেলার বাহাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে নির্মিত বাঁধেরও বেহাল অবস্থা। বাঁধে শুধুমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে। এরপর কাজের আর কোন অগ্রগতি নেই। এক্সেকেভেটর দিয়ে কাটা মাটির বিশাল খন্ড পড়ে আছে এব্রোথেব্রু (এলোমেলো) ভাবে। এক্সক্সেভেটর নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাজ বিলম্ব হয়েছে দাবি সংশ্লিষ্ট কমিটির।
শাল্লা রঘুনাথপুরের করুনা সিন্ধু দাস বলেন, কাজ সঠিক সময়েই শুরু হয়েছিল কিন্তু মাঝখানে বন্ধ করে দেয়ায় বাঁধ সম্পূর্ণ হয় নি। এই গাফলাতি না করে মাটি ফেলার সাথে সাথে দুর্মূজ করলে মাটি বসে যেত। বাঁধ শক্ত হতো। আমাদের জীবীকার এই একমাত্র ফসল নিয়ে প্রত্যেক বছর আমরা শঙ্কায় থাকি।
সত্যেন্দ্র বলেন, আমার ২০ কিয়ার জমিতে ধান লাগিয়েছি। যে ধান রক্ষা করবে বাঁধ। বাঁধের কাজের ফিনিশিং নাই। যে কোন সময় পানি আসলে বাঁধ ভেঙে যাবে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কৃষক ও সুনামগঞ্জের মানুষের সাথে ভাওতাবাজি করছে। যত দিন যাচ্ছে তত কাজের পারসেন্টিজ বাড়াচ্ছে। বাস্তবে কাজের সাথে তাদের রিপোর্টের কোন মিল নেই। এবছরের বাঁধের গুণগত মান খুবই খারাপ। এখন যত দেরিতে বাঁধ নির্মাণ হবে, তত দুর্বল হবে বাঁধ। বাঁধের মাটি শক্ত হওয়ার সময় পাবে না। ফলে যখনই আগাম বন্যা বা ঢল আসবে সেই ধাক্কা এসব বাঁধ সামলাতে পারবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বললেন, এবছর নির্বাচনের কারণে বাঁধের কাজে একটু দেরি হয়েছে। ২৭ তারিখ পর্যন্ত বাঁধের কাজের অগ্রগতি ৭৭ শতাংশ। সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা আরও ১৫ দিন সময় চেয়েছি। এই ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন