প্রকাশিত: ০৩ মার্চ, ২০২৬ ২২:৪৭
তাহিরপুর উপজেলার বহু প্রতীক্ষিত যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতু দুটি ৮ বছরেও শেষ না হওয়ায় হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু এবং পাটলাই নদীর ওপর ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরেকটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতু দুটির কাজ পায় তমা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ৩০ মাস। সে অনুযায়ী ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সুনামগঞ্জ এলজিআরডি সূত্রে জানা যায়, ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৮ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মৈত্রী সেতুর বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ৬৭ কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ। একই সময়ে ৪৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৯ টাকা ব্যয়ের পাটলাই সেতুর বিপরীতে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৯ টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ দুই সেতুর কাজই এখনও অসম্পূর্ণ।
গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যাদুকাটা সেতুর দুই পাশের অংশ নির্মাণ শেষ হলেও মাঝের অংশে কাজ বাকি রয়েছে। অন্যদিকে পাটলাই সেতুর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না হওয়ায় সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে।
বালিয়াঘাট নতুন বাজারের ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও দুই পাশে এপ্রোচ সড়কে মাটি না থাকায় মানুষ চলাচল করতে পারছে না। সামান্য উদ্যোগ নিলেই সেতুটি ব্যবহার করা যেত।
বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী সারোয়ার ইবনে গিয়াস বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতু দুটির কাজ শেষ হচ্ছে না। তাহিরপুরবাসীর প্রশ্ন এই সেতু কবে আলোর মুখ দেখবে?
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। অসমাপ্ত কাজের নতুন প্রাক্কলন তৈরি করে প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন করে কাজ শুরু হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেতু দুটির নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবাগত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তিনি এলজিআরডি ও সেতু মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে দেখা করে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা নিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন