প্রকাশিত: ০৯ মার্চ, ২০২৬ ২৩:০৪
শীত শেষ হয়ে বসন্ত চলে আসায় কিছুটা গরম অনুভূত হচ্ছে। আর ফাল্গুন মাসে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা পেয়েছে হাওরবাসী। ফাল্গুনের দিনে বৃষ্টিতে ভিজল সুনামগঞ্জের হাওরের উপজেলা তাহিরপুর। ধুয়ে গেল বৃক্ষরাজির গায়ে, লতা-পাতা ও টিনের চালায় জমে থাকা ধুলাবালির আস্তরণ। এতে প্রাণ ফিরেছে প্রকৃতিতে। স্বস্তি মিলেছে জনমনে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাত ৩টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রশান্তির এক পশলা বৃষ্টি দেখা মিলে। রাতের গুরি গুরি বৃষ্টিতে রাস্তার সমস্ত ধূলিবালি পরিস্কার হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে যেমন প্রকৃতিতে, অন্যদিকে কৃষি ফসলের জন্যেও আশীর্বাদ হয়েছে স্বল্প সময়ের এই বৃষ্টি।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর তাহিরপুর উপজেলার ২৩টি হাওরে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে।
এদিকে গুরি গুরি এ বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারী হবে বলে জানান, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক সুজন চন্দ। তিনি জানান, ‘শনির হাওরের ফসলের জন্য সেচ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হওয়াতে এ বছর ধানের ফলন খুব ভালো হবে। বিশেষ করে ধানের এই মৌসুমে থোর গজানোর সময়ে গুরি গুরি বৃষ্টি ফসলের জন্য অনেকটা উপকারে হয়েছে, এই বৃষ্টি যেন তার কাছে আশীর্বাদ হয়ে গেছে।’
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মারালা গ্রামের কৃষক মিয়া হোসেন জানান, ‘সাময়িক বৃষ্টি হলেও এর উপকারিতা অনেক বেশি। সম্পূর্ণ ধান গাছটি ভিজলে ফসলের জন্য উপকারী। হাওরে কোন প্রকার সেচ ব্যবস্থা না থাকায় আকস্মিক বৃষ্টি হওয়ায় ফসলের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে।
নোয়ানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, এ বছর ভাবছিলাম হাওরের বোর ধানের ফসল প্রচণ্ড খড়াতে ব্যাপক ক্ষতি হবে। খড়ায় কিছু কিছু জমি ঝলসে গিয়েছিল। সোমবার রাতের আকিস্মক বৃষ্টিপাতে ধানের গাছ ভিজে গোড়াতে পানি পড়েছে। যা বোর ফসলের জন্য খুবই উপকারী। বৃষ্টি হওয়ায় এবার তিনি ভালো ফসল ঘরে উঠাতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, সোমবার রাতে গুরি গুরি বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের জন্যও উপকার হবে। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি চেপে বসবে। অনেক সময় প্রকল্প কমিটিকে চাপ সৃষ্টি করেও বাঁধে পানি দেওয়ানো যায় না। বৃষ্টি হওয়াতে প্রাকৃতিকভাবেই কাজটি হয়ে গেছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পষিদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, শনির হাওরপাড়ের অনেক কৃষক তাকে জানিয়েছেন হাওরের সকল স্থানেই বৃষ্টিতে ধানের গাছ ভিজেছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় এবার ধানের ফলন খুব ভালো হবে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এ সময়ের বৃষ্টি সকল ফসলের জন্যে উপকারী, বিশেষ করে বোরোধান চাষের জন্য বেশ উপকারী। ধানচাষে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন হওয়ায় এই প্রাকৃতিক পানির বিকল্প নেই। ফলে কৃষকের ফসলের জমিতে সেচের পানির পরিমাণ কিছুটা কম লাগবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন