প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২৬ ২৩:০৩
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। পৌর শহরের বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে এখন উপচেপড়া ভিড়। সকাল দশটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা- বিক্রেতাদের মধ্যে আছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
শহরের বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়, যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নতুন ডিজাইনের পাকিস্তানি থ্রি-পিস, শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবি আর শিশুদের বাহারি পোশাক কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা। যেখানে এক একটি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। আর পাকিস্তানি থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। তবে গত বছরের তুলনায় দাম বেশি থাকায় পছন্দের পোশাক কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। অভিযোগ করছেন, বাড়তি দামের। বাড়তি দাম এবং অরিজিনাল কাপড় নিয়ে কিছুটা সন্দিহান বলে জানান ক্রেতারা।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও এখন ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। তবে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আমদানি করা পোশাক। বিক্রেতারা জানান, আমদানির কারণে কিছুটা দাম বাড়লেও গত বছরের চেয়ে অনেক কম।
বাউল শিল্পী ফারজানা আক্তার আশা তার ভাগনীর জন্য জামা কিনতে এসেছেন। শহরের সুরমা মার্কেটে একাধিক কাপড়ের দোকানে ঘুরে দেখছিলেন। ফারজানার সাথে দেখা হলে তিনি বলেন, মার্কেটের অবস্থা একেবারে ভয়াবহ। কারণ, যে কাপড় গত বছর আমরা দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় কিনেছি। ঠিক একই কাপড় মার্কেটে বিক্রি করছে চার হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকায়। পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার কমে কোনো পছন্দের কাপড় পাওয়া যায় না। হোক ছোট্ট বাচ্চা বা বড়দের। এই কাপড় ঈদের পরে দুই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় কেনা যায়। এখন দোকানদারদের ঈদ হয়ে গেছে। কে কিনতে পারবে আর কে কিনতে পারবে না, এটা তাদের দেখার বিষয় নয়।
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার সুমি বলেন, কাপড়ের অতিরিক্ত দাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর দামটা বেশি। মার্কেটে রেডি থ্রি পিস কিনতে এসেছি। একেকটা থ্রি পিস তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা চায় দোকানদারেরা। আমরা মার্কেটে ঘুরে ঘুরে দেখেছি, সব মার্কেটে একই দাম।
শহরের ওয়েজখালীর বাসিন্দা স্কুল শিক্ষার্থী সায়েম মিয়া তার মা’কে নিয়ে বাজারে এসেছে। প্রতিবেদকের হাতে মাইক্রোফোন এবং ক্যামেরা দেখে আগ্রহ নিয়ে কাছে এসে সায়েম বললো, গত বছর আমি সাড়ে পাঁচশত টাকায় যে টি-শার্ট এবং প্যান্ট কিনেছিলাম। এই বছর সেইম টি শার্ট এবং প্যান্ট কিনেছি আটশ পঞ্চাশ টাকায়। এবছর কাপড়ের দামটা বেশি।
শহরের লন্ডন প্লাজায় বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই ঈদকে ঘিরে মেয়েদের পাকিস্তানি থ্রি পিস, ইন্ডিয়ান থ্রি পিস এবং প্রিন্টের থ্রি পিসের চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও মহিলাদের সুতি ও টাঙ্গাইল শাড়ি এবং ছেলেদের শার্ট এবং পাঞ্জাবি সহ ছোট বাচ্চাদের টি-শার্ট এবং পাঞ্জাবির চাহিদা রয়েছে। প্রকারভেদে পাকিস্তানি থ্রি পিস ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপুল ব্রান্ডের ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস ৯ শত থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রিন্টের থ্রি পিস ৯০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছোট বাচ্চাদের টি শার্ট এবং পাঞ্জাবি ১ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শহরের দোজা মার্কেট, নেজা প্লাজা সহ মধ্যবাজারের বিভিন্ন বিপনী বিতানে কাপড়ের দামটা একই রকম। সুরমা মার্কেট সহ শহরের বিভিন্ন গলিতে ডিসকাউন্টের নামে দ্বিগুণ টাকায় কাপড় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমরা নিয়মিতই অভিযান পরিচালনা করছি। দাম বেশি রাখলে এবং এর তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন