রোজগারহীন দিনমজুরের দিন

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২৬ ২২:১১

আমরা ভোরে শহরের কালীবাড়ি রোডের মুখে বসে থাকি। বেলা ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কাজের জন্য অপেক্ষা করি। সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন কাজ পাই, এতে যে রোজগার হয় তাই দিয়ে কোনমতে চলি। সপ্তাহের বাকী পাঁচ দিনই বেকার থাকি। কাজ পাইলে আমরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে দুই বেলা ভাত খাই, কাজ না পাইলে কষ্ট করা লাগে, মাঝে-মাঝে উপোস থাকি। 


শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কালীবাড়ি পয়েন্টে কষ্টের ছাপ মাখা মুখে বলছিলেন সুফিয়া বেগম। তিনি বলেন, এক মেয়ে আছে, দৈনন্দিন শ্রম বিক্রি করে এবং মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে টাকা রোজি হয়, তাই দিয়েই সংসার চলে। 

 


সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এজন্য শ্রমিক নিতে আসেননি কেউ। এসময় কাজের জন্য সুফিয়া বেগম সহ আরও চার-পাঁচজন মহিলা সহ শতাধিক দিনমজুর অপেক্ষায় ছিলেন। তাদের সাথে থাকা কেউ কেউ কাজ না পেয়ে ফিরেও যাচ্ছিলেন। এদের মধ্যে কয়েকজন বললেন, কিছুদিন পর ঈদ আসছে। এই সময়টাতে বেকার থাকলে আমাদের ঈদ আনন্দ থাকবে না। এসময় ঈদের কয়েকদিন ভালোভাবে কাটাতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা তারা।

 


দিনমজুর মানিক আহমেদ বলেন,  আমরা আজকে ভোরবেলায় কাজের উদ্দেশ্যে এখানে আসছিলাম।  কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় আজকে কাজ পাই নি। আমাদের পরিবারে পাঁচ-ছয়জন সদস্য আছে। তাদেরকে কি নিয়ে খাওয়াবো এই টেনশন করছি।  এইভাবেই আমরা মাসের বেশিরভাগ সময় বেকার থাকি।  কোনো কাম কাজ পাই না। সামনে ঈদ আসছে। এমনি তো কামাই-রোজি নাই, তারপর ঈদ।  কি করি, চিন্তা কইরা পাই না। আমাদের যদি জেলা প্রশাসক মহোদয় সাহায্য করতেন- আমরা খুশি হতাম।  

 


গৌরারং ইউনিয়নের চানপুর এলাকার রাজু মিয়া। তিনি বলেন, আমরা সকালে এখানে এসেছি। এরপর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।  আমরা গরিব মানুষ আজকে কামকাজ না পাইলে না খেয়ে থাকা লাগবো। আমাদের আসা-যাওয়া করতে ৬০ টাকা ভাড়া লাগে। রোজি না হলে খালি হাতে ফিরে যেতে হবে। পরিবারের লোকজন নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার