মন্দা ঈদ বাজার

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২৬ ২২:১৬

২০ রোজার আগে খুব একটা জমে উঠে না গ্রামীণ ঈদের বাজার। শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতেও ছিলো না ঈদের কোনো আমেজ। গত দু’দিন থেকে বাজারে আসতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। মহিলা ক্রেতাদের আনাগোনাও ছিলো চোখে পড়ার মতো। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাজারে পোষাক, জুতা ও প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত হতে শুরু করেছিলেন বেচাকেনায়। কিন্তু সেই ব্যস্ততায় কিছুটা বাধা সৃষ্টি করেছে শ্রক্রবার ভোররাতের তুমুল বৃষ্টি। টানা প্রায় চার ঘন্টার বৃষ্টিতে বাজারে বাজারে সৃষ্টি হয়েছে কাদা। যা সমস্ত দিনের ব্যবসায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২১ ও ২২ রোজায় যে ব্যস্ততায় দিন কাটিয়েছেন দোকানিরা সেই ব্যস্ততার অর্ধেকও ছিলো না গতকাল। দোকানিরা জানিয়েছেন, যেসব দোকানে বুধ ও বৃহস্পতিবার এক থেকে দেড় লাখ টাকার কাপড় বিক্রি হয়েছে সেসব দোকানে শুক্রবারের বিক্রি ছিলো ৫০ থেকে ৭০ হাজার। জুতা ও প্রসাধনীর দোকানগুলোর একই অবস্থা ছিল।

 


শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বড় বাজার আছে মাত্র ৬টি। পাগলা বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার, পাথারিয়া বাজার, ভমবমি বাজার, নোয়াখালী বাজার ও আক্তাপাড়া মিনাবাজার। মধ্যমানের বাজার হচ্ছে গণিগঞ্জ বাজার ও চিকারকান্দি বাজার। আছে বাংলা বাজার ও বীরগাঁও বাজারও। ছোট বড় এসব বাজারে এই জনপদের দেড় লক্ষাধিক মানুষ হাট-বাজার করে থাকেন। ঈদে কিছু ক্রেতা সিলেট কিংবা সুনামগঞ্জে গিয়ে শপিং করেন, বাকীদের এসব বাজারেই ভরসা। এতো এতো ক্রেতাদের ভরসা যেসব বাজার উপজেলার সেসব বাজারগুলোতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুব একটা উন্নত না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদার সৃষ্টি হয়। ক্রেতা-বিক্রেতার চলাচলে ব্যঘাত সৃষ্টি করে। এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা না করে অনেক ক্রেতারাই ছুটেন শহরের দিকে। এতে গ্রামীণ বাজারগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। লোকসান গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। অথচ ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকে তাদের। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার থেকে প্রচুর টাকা রাজস্ব পায় সরকার কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন ব্যবস্থার দিকে ভ্রুক্ষেপহীন কর্তৃপক্ষ।

 


শুক্রবার দুপুর দুইটায় উপজেলার পাগলা বাজারের প্রধান গলি ছিলো কর্দমাক্ত। হাঁটতে গেলেই কাপড় নোংরা হয়ে যাচ্ছে। বোরকা পড়ে আসা নারী ক্রেতাদের অবস্থা ছিলো খুবই নাজুক। কাদা লেগে নিচের দিকে খুব বাজেভাবে নষ্ট হয়েছে বোরকা ও পা। অনেক ক্রেতাকে খুব বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে হয়েছে। অনেকের ইচ্ছা থাকলে সময় নিয়ে ঘুরে দেখেন নি একাধিক দোকান। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু পাগলা বাজারই নয়, স্থানীয়রা জানিয়েছেন উপজেলার পাথারিয়া, নোয়াখালী ও শান্তিগঞ্জ বাজারেও বৃষ্টির প্রভাব ছিলো লক্ষ করার মতো। সব মিলিয়ে বৃষ্টিটা আপাতত ঈদের ক্রেতা বিক্রেতার জন্য খুব একটা সুখকর নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী হারুন মিয়া, ভমবমি বাজারের ব্যবসায়ী ভক্ত দত্ত, পাগলা বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ও আবদুল কাদির বলেন, বাজারগুলোতে পানি নিষ্কাশনের সঠিক কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে গলিতে কাঁদার সৃষ্টি হয়। ক্রেতারা বাজারে আসলে কাদা-জলে ভিজে একাকার হয়ে যান। এটা আমাদের ব্যবসায় খুব নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

 


পাগলা বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমাদের বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই। টিউবওয়েল নাই। পাবলিক টয়লেট নাই। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন, আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই। প্রতি বছর আমরা প্রচুর টাকা দিয়ে বাজার নিলাম আনি। সরকার রাজস্ব পায়। কিন্তু আমাদের বাজার উন্নয়নে তারা খুব উদাসীন। 

 


শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাজারগুলো পরিচালনার জন্য কমিটি আছে। ব্যবস্থাপনা টিম আছে। আমাদের মতো সকলেরই দায়ীত্ব আছে বাজারকে গুছিয়ে পরিচালনা করার। ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কেউ আমাকে কিছু বলেননি। ইজারারদের অনেক কিছু করার থাকে। আগামীতে লিজ দেওয়ার পর সবাইকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তারা অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে। কিছু দিন আগে পাগলা বাজারের কমিটি এসেছিলেন। আমি বলেছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার