প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০৮
২০২২ সালের জুনের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয় সড়কের। সড়কের পিচ—খোয়া উঠে যায়। বর্তমানে সড়কের ইট ও বালু উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে সড়ক। বৃষ্টির সময় গর্ত ভরে যায় পানিতে। কোথাও কোথাও আবার পিচের চিহ্নটুকুও নেই। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাসননগর মাদ্রাসা পয়েন্ট—যুগিরগাঁও পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের এই বেহাল অবস্থা। সুনামগঞ্জ—বেতগঞ্জ বাজার সড়ক হিসেবে এলাকায় পরিচিত এটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতোদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে তাঁদের। প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পৌরসভার হাসননগর মাদ্রাসা পয়েন্ট সহ সদর উপজেলার বেতগঞ্জ—ইছাখড়ি বাজার এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্নস্থানে পিচ ও ইট সলিং উঠে গেছে। বড় বড় অসংখ্য গর্তে সড়কের বেহাল অবস্থা। বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনব্যাপী গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে সড়কের খানাখন্দে পানি জমে আছে। সড়কের অনেক জায়গা হয়ে আছে কাদাময়। স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা এবং বেতগঞ্জ—ইছাখড়ি বাজার ব্যবসায়ীরা পণ্য আনানেয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বেহাল সড়কে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন।
সিএনজি চালক আজিজুর রহমান বলেন, গত বছর বন্যায় সড়ক ভেঙে যায়। ১৭—১৮ মাস ধরে আমরা চরম দুভোর্গে আছি। চলাচলে প্রায় সময় গাড়ির ভারসাম্য ঠিক রাখতে বেগ পেতে হয়। প্রায়ই ভাঙা সড়কে গাড়ি উল্টে যায়। তিনি বলেন, গর্তে পড়ে গাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হচ্ছে, কয়েকদিন পরপর গাড়ি ঠিক করা লাগে। রোগী নিয়ে গাড়ি চালাইতে ভয় হয়। আমরা চাই সড়কটি যেন তাড়াতাড়ি সংস্কার জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করা হয়।
সিএনজি চালক রাগিব আলী বলেন, অনেক কষ্টে ও সাবধানে আমাদের এই সড়কে গাড়ি চালাতে হয়। এরপরও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সড়কটি মেরামত করার জন্য কেউ উদ্যোগ নেয় না। দ্রুত মেরামত করার জন্য সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাই।
সরকারি শিশু পরিবারের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবা আক্তার বলেন, সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) এর গেইটের সামনে সড়কে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও রোদে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলোর কারণে সড়কে চলাচল করা যায় না। আবার বৃষ্টিতে সড়ক কাদা হয়ে যায়, পানি জমে থাকে, আমাদের পোষাকও নষ্ট হয়। সড়ক মেরামত করে দিলে আমরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবো।
শিক্ষার্থী সালমা আক্তার বলেন, সড়ক ভাঙা থাকায় যানবাহন ধীরে চলে, স্কুলে যাতায়াতের সময় প্রায়ই যানজট হয়। সময় মতো স্কুলে যেতে পারি না। ভাঙাচুরা রাস্তার কারণে কাদামাটি ছিটকে গিয়ে আমাদের পোষাক নষ্ট হয়ে যায়। আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, আমাদের শিশু পরিবারের গেইটের সামনের সড়কটি দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে দিন।
গুজাউড়া অটো রাইছমিলের ড্রাইভার নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারি এতিমখানার (সরকারি শিশু পরিবারের) সামনে থেকে যুগিরগাঁও পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা ভাঙা। সড়কের স্থানে স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। চলাচলে আমাদের খুব সমস্যা হয়।
দ্বীনি সিনিয়র ফাজিল মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাসাইন আহমেদ বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মাদ্রাসায় যাই। সড়ক ভাঙা থাকার কারণে যাতায়াতে অসুবিধা হয়। রোগী নিয়ে সদর হাসপাতালে যেতেও সমস্যা হয়। সড়কটি দ্রুত মেরামত করার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা। আমাদের কলেজে যেতে সময় বেশী লাগে। এছাড়াও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দ্রুত সড়ক মেরামত করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আমার অনুরোধ রইল।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, যুগিরগাঁও, বুড়িস্থল পয়েন্ট সহ হাছননগর মাদ্রাসা এবং সরকারি শিশু পরিবারের গেইটের সামনে সড়ক ভেঙেছে। আমরা মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী তিন—চার মাসের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন