১৫৫ কাটুন দুধ বিদ্যালয় থেকে ফেরত নিলো আড়ং কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৩৬

স্কুল মিল্ক প্রোগ্রাম

স্কুল মিল্ক প্রোগ্রামের ১৫৫ কার্টুন দুধ বিদ্যালয় থেকে ফেরত নিয়ে গেলেন আড়ং দুধ কর্তৃপক্ষের সিলেটস্থ এরিয়া ম্যানাজার রাসেদুল হক। তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসেন আহমদ তৌফিক জানান, ৩১ মার্চ মঙ্গলবার বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে আড়ং দুধ কর্তৃপক্ষের লোকজন বিদ্যালয়ে এসে জানায়, স্কুল মিল্ক প্রোগ্রামের প্রকল্প মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এজন্য তাদের বিদ্যালয়ে অবিতরণকৃত ১৫৫ কার্টুন আড়ং মিল্ক দুধ  ফেরত নিতে চাইলে তারা বাধ্য হয়েই ফেরত দিয়ে দেন।

 


জানা যায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় স্কুল মিল্ক প্রোগ্রাম ২০২৩ খ্রি. হতে সারাদেশে ৩০০ টি বিদ্যালয়ে চলমান ছিল।  বর্তমানে এর আওতা বৃদ্ধি করে আরও ৩০০ সহ মোট ৬০০ টি বিদ্যালয়ে প্রকল্পের মেয়াদ পর্যন্ত চলমান থাকবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণিজ পুষ্টি সরবরাহ। শিক্ষার্থী সহ সকলের দুধের উপকারিতা জানানো, অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণ, দুধের খামার তৈরিতে উৎসাহ প্রদান, ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী কমানো। বর্তমানে নতুন করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি ও ধর্মপাশায় একটি বিদ্যালয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বাচ্চাকে প্রতিদিন ২০০ মিলি করে দুধ দেওয়া হবে বর্তমানে প্রকল্প ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে।
এ লক্ষ্যে গেল বছরের ৬ ডিসেম্ভর থেকে তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের টিফিন পিরিয়ডে প্রতিজন শিক্ষার্থীকে ২০০ গ্রাম লিকুইড (আড়ং দুধ) দেয়া হয়। এতে করে তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল মিল্ক প্রোগ্রাম’ চালু হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার শতভাগে দাড়িয়েছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ জানান, প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষার শেষে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা কৃষি কাজে বোর জমিতে হালিচারা সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে। এছাড়াও বিদ্যালয়ে এ সময়ে উপস্থিতির একেবারেই কম থাকতো। এ বছর তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল মিল্ক প্রোগ্রাম’ চালু থাকায় উপস্থিতির হার শতভাগ দাঁড়িয়েছিল।

 


প্রকল্পের মেয়াদ শেষ ২৬ জুন তাহলে ৩১ মার্চ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন ১৫৫ কার্টুন আড়ং দুধ ফেরত নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে আড়ং দুধ কর্তৃপক্ষ সিলেটস্থ এরিয়া ম্যানাজার পরিচয়দানকারী রাসেদুল হক জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ১৫৫ কার্টুন দুধ ফেরৎ নেন।

 


তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোছাৎ রওশন আরা বেগম বলেন, প্রকল্প কর্তৃক শিশুদের দুধ দেয়ার শুরুতে তারা বলছিল ৪ মাস তারা শিশুদের দুধ দিবে। কিন্তু দুধ দেয়ার শুরু থেকে রমজানের দেড় মাস বন্ধ থাকায় গড়ে একমাস দুধ দিয়েছে। মেয়াদের আগেই হঠাৎ প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ায় ও ১৫৫ কার্টুন দুধ ফেরৎ নেয়ায় আমাদের খুবই খারাপ লাগছে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে লিখিতভাবে জানাবেন বলে জানান তিনি।


তাহিরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার হাবিব আহাম্মদ বলেন, আমাকে আড়ং দুধ কর্তৃপক্ষের লোকজন বলেছে প্রকল্পের মেয়াদ নাকি শেষ। এমতাবস্থায় তারা বিদ্যালয়ে জমাকৃত দুধ নিতে পারে না।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার