প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:১৬
তাহিরপুরে ডিজেল সংকট
ডিজেল সংকটের কারণে তাহিরপুর উপজেলার কৃষকরা কম্বাইন হারভেস্টার (ধান কাটার যন্ত্র) নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চলতি মৌসুমে তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোর ধানের চাষাবাদ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কম্বাইন হারভেস্টার থাকার পরও বাজারে ডিজেল সংকটের কারণে সময়মত বোর ফসল তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, উপজেলাতে সর্বমোট ৬৮টি কম্বাইন হারভেস্টার রয়েছে। যার মধ্যে ৪৮টি কম্বাইন হারভেস্টার এখনই নামানোর (সচল) মতো অবস্থায় রয়েছে। বাকিগুলো মেরামত করার প্রস্তুতিতে রয়েছে। কম্বাইন হারভেস্টারগুলোকে কারিগরি সহযোগিতার জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলার নোয়াল গলগলিয়া হাওরপাড়ের রামসিংহপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নোয়াল গলগলিয়া হাওরের অনেক জমি পানিতে টলটলায়মান অবস্থা। জমির পানি ও বাইরের অংশ টাঙ্গুয়ার হাওরের পানি উভয়দিকে সমান সমান থাকার কারণে তারা বাঁধ কেটে পানি বের করতে পারছেন না।
শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আলমগীর খোকন বলেন, এ বছর কৃষকদের ভাগ্যে কি আছে তা বলা যাচ্ছে না। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেও কাজ শেষ হচ্ছে না। অপরদিকে বৃষ্টির পানিতে শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও বর্ধিত গুরমা হাওরের নীচু অংশের জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ হাওরগুলোতে যে ধান রয়েছে তা উঠানোর একমাত্র পথ কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন। কিন্তু বাজারে ডিজেল সংকটের কারণে হারভেস্টার মেশিন নিয়ে অচল হয়ে বসে থাকবেন কৃষকরা।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, কম্বাইন হারভেস্টার (ধান কাটার যন্ত্র) ও ডিজেল নিয়ে সম্প্রতি জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সভা হয়েছে। সভায় নির্দেশনা দেয়া হয়- কি পরিমাণ ধান কাটা হবে তা একদিন পূর্বে হারভেস্টার মালিক একটি তালিকা প্রস্তুত করে ইউএনও অথবা যদি দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দিতে হবে। ১০০ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) কৃষকদের তালিকাসহ জমি ধান কাটতে আনুমানিক ২০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন। তালিকা মোতাবেক ইউএনও ডিজেল পাম্পে তেল দেয়ার সুপারিশ প্রদান করবেন বলে সভায় জানানো হয়।
মাটিয়ান হাওরপাড়ের আনন্দনগর গ্রামের কৃষক শাহ আলম বলেন, বৃষ্টির পানিতে হাওরে ধান ডুবুডুবু করছে। কিভাবে ধান কেটে খলাতে তুলবো তার চিন্তাতেই সময় যাচ্ছে না। ধান কাটার শ্রমিক দিয়ে কাটবো নাকি হারভেস্টার দিয়ে কাটবো। তিনি বলেন, জমিতে বেশী পরিমাণ পানির কারণে এবার হয়তো হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
বড়দল গ্রামের কম্বাইন হারভেস্টার মালিক মুছিহুর রহমান মিলন বলেন, ডিজেলের কারণে হারভেস্টার নিয়ে বিপদে আছি। কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জে ডিসি স্যার ডিজেল সংকট নিয়ে সভা করেছেন। এখন আবার তাহিরপুরের ইউএনও স্যার আমাদের নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার।
মহালিয়া হাওরপাড়ের সুলেমানপুর গ্রামের কৃষক হাবুল মিয়া বলেন, বৃষ্টির পানিতে হাওরের প্রায় ৫শ কিয়ার (৩০শতকে এক কিয়ার) জমি তলিয়ে গিয়াছে। বর্তমানে হাওরে যে ধান রয়েছে তা কাটতে গেলে কম্বাইন হারভেস্টারের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সরকারকে হারভেস্টার মালিকদের ডিজেলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বোরো ধান কাটার বিষয়ে ডিজেল সংকট নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এটা তো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা। তারপরও আমরা বোর ধান কাটার বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আবহাওয়া বার্তা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ফিফটি ফিফটি আগাম বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। ধান এখনো পাকেনি। কৃষকদের আমরা বলে দিয়েছি ৮০ ভাগ ধান পাকা হলেই তারা যেন ধান কেটে নেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন