প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর, ২০২৩ ০৮:৩১
আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা, প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচনের। মূলত: পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে ঘিরে উপজেলার আওয়ামী পরিবারের মাঝে এমন উচ্ছ্বাস। ইতোমধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশী হয়ে মনোনয়নপত্র কিনেছেন সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী। এতে শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসের পালে আরও বেশি হাওয়া লেগেছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো কোনো স্থানে সভা সমাবেশ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এসব সভা বৈঠকে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন নেতারা।
অপরদিকে মামলা— মোকদ্দমায় বেসামাল বিএনপি। নৈরাজ্য সৃষ্টি ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই দুই মামলায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি আনছান উদ্দিনসহ ১৩ জন বিএনপির নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকীদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গ্রেফতার আতঙ্ক আছে স্থানীয় বিএনপির মাঝে। দুয়েকদিন ঝটিকা মিছিল করলেও বড় ধরণের কোনো মিছিল কিংবা সভা—সমাবেশ করতে পারে নি তারা।
জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার একেবারে ওয়ার্ড পর্যায়ে কাজ করছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেতে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছেন তারা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে, সেসব কথা ভোটারদের মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপিও আগের তুলনায় ঘন ঘন আসছেন এলাকায়। বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ভোটাররা। সূত্র জানায়, চলতি মাসের মধ্যে চারবার নিজের জন্মস্থান শান্তিগঞ্জে এসেছেন মন্ত্রী মান্নান। এসময় পাথারিয়া, পাগলা, পূর্ব পাগলা, পূর্ব বীরগাঁও, জয়কলস, শান্তিগঞ্জ ছাড়াও সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে একাধিক সভা—সমাবেশ ও আনন্দ র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে দিন কাটাচ্ছেন তার কর্মী সমর্থকেরা।
এছাড়াও মন্ত্রীর শান্তিগঞ্জের হিজল বাড়ির আরফান আলী বৈঠকখানায় নিয়মিত সভা ও মতবিনিময় করছেন দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসনাত হোসেন। এখান থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। অন্যদিকে দলের নির্দেশনা মানতে ও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে উপজেলার পাগলা বাজার, আক্তাপাড়া মিনাবাজার, দিরাই রাস্তার মুখে (মদনপুর পয়েন্ট) একাধিকবার ঝটিকা মিছিল দিয়ে ও যানবাহন ভাংচুর করে হরতার অবরোধের পক্ষে নিজেদেও অবস্থান জানান দিয়েছে বিএনপির কর্মীরা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনায় আমরা একদম আন্দোলনমুখী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না। আগামীতে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। বিএনপি আরও শক্তিশালী কর্মসূচি দেবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিতাংশু শেখর ধর সিতু বললেন, দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প কোনো সরকার নেই। সুনামগঞ্জের উন্নয়নে দরকার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে। এক সময় সুনামগঞ্জ একটি অবহেলিত জেলা ছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কর্মতৎপরতায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিটাক, নার্সিং ইনস্টিটিউট পেয়েছি। এবার রেললাইন, বিমানবন্দর ও হাওরের বুকের উপর দিয়ে উড়াল সড়কের স্বপ্ন আমাদের। এগুলোও আসবে সুনামগঞ্জে, কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই ধরণের মন্তব্য করলেন সাধারণ সম্পাদক মো. হাসনাত হোসেন
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খালেদ চৌধুরী বলেন, কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে আমরা তাদের প্রতিহত করবো। নৈরাজ্য সৃষ্টি ও গাড়ি ভাংচুরের কারণে এ পর্যন্ত দুইটি মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন