প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:২৯
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ব্যবহৃত এবং অব্যবহৃত দোকানকোটাগুলোতে চলছে মাদক ও নেশাখোরদের আড্ডা। মার্কেটের দোকানগুলো চালু না হওয়ায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি মাদকসেবীসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি আতঙ্কে ভুগছেন।
জানা যায়, মার্কেট নির্মাণের একযুগ পর ৭৬ টি দোকানকোটার মধ্যে ৬-৭ টি ভাড়া দেওয়া হলেও বাকিগুলো চালু করা হয়নি। যে কারণে বর্তমানে মাদকসেবন এবং বাজে কাজের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে এটি। এ নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় ‘কী জন্যে কিচেন মার্কেট?’ সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই সময় পৌর কর্তৃপক্ষ বলেন, শীঘ্রই কিচেন মার্কেটের সামনে একটা সিঁড়ি নির্মাণ করা হবে ও মার্কেটের দ্বিতীয় তলার দোকানকোটা চালু করে দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও কার্যকরী কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের সিঁড়ি থেকে শুরু করে দ্বিতীয় তলায় ময়লা আবর্জনা জমে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। দোকানকোটার সামনে মলমূত্রের দুর্গন্ধে চারদিকের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কখনও কখনও দিনে এবং প্রতি রাতে এখানে নেশার আসর বসে। আবার কখনও কখনও অশ্লীল কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কিচেন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে মার্কেটের দ্বিতীয় তলা দ্রুত চালুসহ মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য কমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলার দোকানকোটাগুলো চালুসহ ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং ভোক্তাদের সুবিধার জন্য সামনে সিঁড়ি নির্মাণ করার কথা জানিয়েছেন।
সবজি বিক্রেতা মো. সেলিম বলেন, আমাদের কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলা বর্তমানে বাজে অবস্থায় আছে, খুবই খারাপ পরিবেশ, সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন চলে। অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ডও হয় সেখানে। মার্কেটে ময়লা আবর্জনা জমে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং নেশাখোররা পেশাব- পায়খানা করছে, দুর্গন্ধে টিকে থাকা মুশকিল। আমরা যখন দোকান বন্ধ করে যাই, তখন নেশাখোররা আমাদের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত মার্কেটের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক এবং বাজে কাজে যারা জড়িত রয়েছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
কিচেন মার্কেট মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয়তলা খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রশাসনের গুরুত্ব দিতে হবে। মার্কেটটি আবর্জনা আর বাজে মানুষের আখরায় পরিণত হয়েছে। বাজে আড্ডা, নেশায় আসক্ত হয়ে যা খুশি তা করে যাচ্ছে। মার্কেটের উপরে মদ- গাঁজা খায়, পেশাব- পায়খানা করে। এতে করে মার্কেটটি ব্যবসার অনুপযোগী হয়ে গেছে। মার্কেটটি দ্রুত চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাই।
কিচেন মার্কেট মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন, কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয়তলায় নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। মদ-জুয়া, গাঁজা সেবন সহ নানা ধরনের অনৈতিক কাজ হয়। মার্কেটের দোকানকোটাগুলো প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরকে দেওয়া হয় নি, হাতে গোনা কয়জনকে লিজ দেওয়া হয়েছে, যে কারণে মার্কেট চালু হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা যারা মার্কেটের নিচতলায় ব্যবসা করছি, তারা খুবই সমস্যায় আছি। দ্বিতীয় তলায় প্রতিনিয়তই নেশাখোরদের মধ্যে মারামারি হয়। যে কোনো সময় তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় মার্ডার হতে পারে। অবস্থার উত্তোরণে কর্তৃপক্ষ মার্কেট চালুর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই আমি আশা করি।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বলেন, আমরাও জেনেছি, কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় কিছু ইয়াবাখোর নেশা করে ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে আছে। তারা মার্কেটের ভিতরেই প্রশ্রাব এবং পায়খানা করে। মার্কেটের সামনে একটা সিঁড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি অনেকে ব্যবসায়ীদের, সিঁড়ি নির্মাণ করা হলে মার্কেট চালু হবে।
তিনি বলেন, আমরা শীঘ্রই সিঁড়ি নির্মাণ করে দেব। সিঁড়ি নির্মাণ হলে মার্কেটের সমস্যা থাকবে না, তখন ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন