প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৩৪
কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে দেখার হাওরের প্রায় ১২০০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা তাদের ফসল বাঁচাতে প্রশাসনের কাছে ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়ে আসলেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় কৃষকরা সেলু মেশিন বসিয়ে পানি নিষ্কাশন করছেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ না হওয়ায় কৃষকরা কেটে দিলেন ফসল রক্ষা বাঁধ।
শুক্রবার সকালে জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর অংশের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়াড়াই বাঁধ কেটে দেন ইউনিয়নের কৃষকরা। এসময় কয়েকশ কৃষক উপস্থিত থেকে ভেকু মেশিনের সাহায্যে বাঁধটি কেটে দেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়াড়াই গ্রামের পাশে কাড়াড়াই ক্লোজার ভেকু মেশিন লাগিয়ে কাটছেন কৃষকরা। এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৯ নম্বর প্রকল্প ছিল। তবে বাঁধের হাওর অংশে বেশি পানি থাকায় ও পানি নিষ্কাশনের কোন পথ না রাখায় হাওরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধাতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকদের প্রায় ১২০০ হেক্টর সোনালী ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
অপরদিকে গত বুধবার (১ এপ্রিল) পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ১৬ নম্বর প্রকল্পের পুটিয়া নদীর ক্লোজারটিও কেটেছেন কৃষকরা। এই বাঁধটি কেটে নদীর পানি কমার ফলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি আসায় উপরের ১৯ নম্বর প্রকল্প কাড়াড়াই ক্লোজার কেটে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন।
এলাকার কৃষক ছমির উদ্দিন ছালেহ জানান, হাজার হাজার হেক্টর বোর ফসল চোখের সামনে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের সাথে অনেকবার যোগাযোগ করেছি, তারা কোন সমাধান দিতে পারেননি। এখন বাঁধগুলো কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাশন করছি, পরে আবার আমরাই ঠিক করে দেব। এজন্য আগে থেকেই বাঁধের পাশে আমরা মাটি ও বস্তা স্টক করে রেখেছি।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছাদেক মিয়া জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছি বাঁধগুলো কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য, কিন্তু কোন প্রতিকার পাই নি। তবে তিনি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সরেজমিন দেখে গেছেন। পরে জানানো হয়েছে- আমাদের দায়িত্বে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবার ঠিক করে দিতে। সেজন্য আমরা আনুষ্ঠানিকভাব নিজেরা চাঁদা তুলে খরচের ব্যবস্থা করে বাঁধ কেটে দিয়েছি।
১৬ নম্বর প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ছালিক মিয়া জানান, আমি এলাকার কৃষক পারিবারের সন্তান। আমারও অনেক জমি হাওরে আছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি। পানি নিষ্কাশন শেষ হলে এলাকার কৃষকরা তাদের খরচে বাঁধ বেঁধে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। হাওরের কৃষকরা এই সময়ে উভয় সংকটে আছেন। উপরের জমির মালিকগণ বাঁধ কাটার ফলে বেশি আতঙ্কে আছেন।
পূর্ব পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, হাওরের কৃষদের কষ্টের কথা আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। কৃষকরাও উভয় সংকটে আছেন। এলাকার কৃষকরা নিজ দায়িত্বে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করছেন। এই বাঁধ আবার আমাদের সবার সহযোগিতায় বাঁধা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, কৃষকরা বাঁধগুলো কাটার আগে আমাদেরকে অবগত করেছেন। আমরা প্রতিটি বাঁধের সার্ভে করে রেখেছি। বাঁধ কৃষকরা তাদের নিজ উদ্যোগে কেটে দিচ্ছেন, আবার নিজ উদ্যোগেই বেঁধে দিবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা কোন অনুমোতি বা পারমিশন দেই নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, এলাকার কৃষকরা আমাকে অবগত করেছেন। আমি সরেজমিনে জায়গা ঘুরে দেখে এসেছি। কৃষকরা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাঁধ আবার বেঁধে দিবেন।
তিনি জানান, বাঁধগুলো বাঁধার আগে সঠিক পরিকল্পনা ও ডিজাইন করা দরকার ছিলো। বাঁধের বাইরের পানি যেভাবে আটকাতে হবে, সেইভাবে ভেতরের পানি বের করারও পথ রাখতে হবে, সেটা করা হলে এই সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন