প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৪৩
বিদ্যুতের লোডশেডিং
বিদ্যুত না থাকায় মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে পড়ছেন এক ক্ষুদে শিক্ষার্থী। ছবিটি বুধবার সন্ধ্যায় পাগলা বাজার এলাকার কান্দিগাঁও থেকে তোলা। -ছবি. সুখবর
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুত ভোগান্তিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চারদিন পর এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় বসতে যাওয়া পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুত বিভ্রাটে কোনো অবস্থাতেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছেন না উপজেলার ১ হাজার ২১৪ জন পরীক্ষার্থী। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ভবিষ্যত পড়াশোনায় ভীষণ প্রভাব ফেলে। অথচ লোডশেডিং বা বিদ্যুত বিভ্রাটের এমন ভেল্কিবাজিতে ফলাফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কিশোর বয়সী এসব ছেলেমেয়েরা। একদিকে ক্রমাগত গ্রীষ্মের উষ্ণতা অন্যদিকে বিদ্যুত হীনতায় পড়াশোনায় মনোযোগী হতে চরম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে পরীক্ষার্থীদের মাঝে। শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীরাই নয়, সব শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছেন না। ক্লাসেও মনোযোগী হতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। বিদ্যুত ঘাটতিতে বই নিয়ে তারাও বসতে পারছেন না চেয়ার টেবিলে।
আবদুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম ও লামিয়া পাঠান তাহিয়া বলেন, বিদ্যুতের কারণে আমরা রীতিমতো অতিষ্ঠ। পড়তে বসতে পারি না। বিদ্যুৎ না থাকলে পড়াশোনায়ও মন বসে না। পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে হলেও বিদ্যুত সমস্যার সমাধান করা উচিৎ। তাদের সাথে একমত পোষণ করেন পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের একদল শিক্ষার্থী।
এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক রওশন খান সাগর বলেন, এখন যেহেতু পরীক্ষার সময় তাই বিদ্যুৎ থাকাটা বাঞ্ছনীয়, না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যঘাত ঘটবে। সন্ধ্যা থেকে অন্তত রাত ১২টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ থাকা উচিৎ।
শিক্ষার্থী সিতু মিয়া বলেন, আমি কিছুটা অসুস্থ। বিদ্যুৎ না থাকায় আমার অবস্থা আরও নাজুক।
এদিকে বিদ্যুতের এমন আসা-যাওয়ায় বিদ্যুত নির্ভর ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম ক্ষতির মুখে। স্টুডিও, সেলুন-পার্লার, রাইস মিল, স-মিল, আইস ফেক্টরি, পানীয় ব্যবসায়ী, পোল্ট্রি ব্যবসায়ীসহ প্রায় সব ধরণের ব্যবসায়ীর মাথায় হাত পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সারা দিন বিদ্যুৎ থাকলে যে ব্যবসা করতে পারেন তার তিন ভাগের একভাগ ব্যবসাও তারা করতে পারছেন না। দিনে অন্তত ২০ বার বিদ্যুত আসা-যাওয়া করছে। ১৪ ঘন্টা দোকান খোলা থাকলে চার ঘন্টাও যথাযথভাবে বিদ্যুত সাপ্লাই পান না তারা। ফ্রিজ ঠিক মতো না চললে ব্যবসায় গতি আসে না বলে জানিয়েছেন পানীয় ব্যবসায়ীরা।
স-মিল ব্যবসায়ী সাব্বির আহমদ বলেছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকলে প্রতিদিন অন্তত ৫০ ফুট কাট চিরতে পারি। এখন যে অবস্থা তাতে ১০/১৫ ফুটের বেশি চিরা যায় না। আমরা প্রতিদিনই লেবার খরচ ভর্তুকি দিচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। বাজারে তেলও পাওয়া যায় না যে, আলাদা জেনারেটর দিয়ে মিল চালাবো, তাতে খরচও বেশি আসে।
স্টুডিও ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার সাপ্তাহিক এবং মাসিক কিস্তি আছে। বিদ্যুৎ থাকলে দোকানে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা আয় হয়। এই আয় থেকেই চলে সব কিছু। বিদ্যুৎ হীনতায় আইপিএস ব্যবহার করে ৫০০ টাকাও আয় করা যায় না। বিদ্যুৎ না থাকলে আইপিএসও চার্জ করা যায় না। ব্যবসা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন সাইফুল।
সেলুন ব্যবসায়ী সবুজ ও পার্লার ব্যবসায়ী ঝুমুর বলেছেন, আমাদের ব্যবসাটাই বিদ্যুত নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে অন্ধকার থাকে। গরমও পড়েছে। কাস্টমাররা আসতে চান না। ব্যবসায় লস যাচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যা কাটিয়ে না উঠতে পারলে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া আর উপায় নেই।
কেনো ঘটছে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে কথা হয় পল্লী বিদ্যুতের একাধিক মাঠকর্মী ও কর্মকর্তার সাথে। তারা জানান, বর্তমানে সারা দেশেই এই সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রান্তি জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুতের বাজারে। বিদ্যুতের কাঁচামাল সংকটের কথাও বলেছেন তারা। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান মিলবে জানতে চাইলে কোনো সদত্তোর দিতে পারেননি শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা।
শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএম অসুস্থ আছেন জানিয়ে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হাফিজ আহমদ বলেন, মূল উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে। আমাদের প্রয়োজন প্রায় ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত, পাচ্ছি মাত্র দেড় থেকে দুই মেগাওয়াট। আমরা সাপ্লাই না পেলে দেবো কীভাবে? তবু চেষ্টা করছি ভালো করার। তবে নিকট ভবিষ্যতে অবস্থা ভালো হবে কি না- এর সদোত্তর দিতে পারেননি তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন