প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:১৪
বছরের ১১ মাস ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্যের পশরা সাজান বাজারের দোকানগুলোতে। চৈত্র-বৈশাখ মাসের বিশ থেকে পঁচিশ দিন বাজারে থাকে কৃষি কাজে ব্যবহার্য বৈশাখী পণ্যের পশরা। এখন সেই সময়। শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাজারেই বৈশাখী পণ্যের পশরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন মানুষের মাঝে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা। হাওরগুলোতে পাকতে শুরু করেছে ধান। ব্যস্ততা বাড়ছে কৃষকের। ধান কাটা থেকে শুরু করে শুকিয়ে উগারে (ধান রাখার জন্য উঁচু করে নির্মিত চৌবাচ্চা বিশেষ) তোলার আগ পর্যন্ত এসব পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার করতে হয়।
উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাজারেই অন্তত দশ থেকে বিশটি দোকান বসেছে বৈশাখী পণ্যের। কোনো কোনো দোকানে বিক্রি হচ্ছে ধান রাখার জন্য ব্রয়লার বস্তা, টাইল, ছোট-বড় ত্রিপল। কোনো দোকানে আছে তাল পাতার তৈরি কৃষক ছাতা, কুলা, টুকরি, বিশেষভাবে তৈরি ঝাড়ু, কাঁচি, কোদাল, পলো, ধান টানার খাটনি, উকুনসহ গরুর মুখে ব্যবহারের জন্য পাটের তৈরি নখতা, হাঁড়ি-পাতিল ঝুলানোর শিক্কাসহ আরও নানান কৃষি পণ্য।
দোকানিরা জানান, একটি তালপাতার তৈরি ছাতা সর্বনিম্ন ৯০ টাকা ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাঁশের তৈরি টুকরি আকার বেদে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। ব্রয়লার বস্তার চাহিদা এখন তুঙ্গে। প্রতিটি বস্তা আকারভেদে বিক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২৩ টাকা। কাঁচি পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। ত্রিপলও বিভিন্ন দাম বিক্রি হচ্ছে।
আস্তমা গ্রামের কৃষক আবদুল খালিক, আসামপুরের ছটু মিয়া ও পাইকাপন গ্রামের আবদুর মনাফ জানান, বৈশাখ মাসে এসব পণ্যের খুবই প্রয়োজন। কম কিংবা বেশি দাম হলেও আমাদের কিনতে হবে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর এসব পণ্যের দাম একটু বেশিই মনে হচ্ছে। দাম কম হলে কৃষিতে অনেক উপকার হবে। না হলে গড় হিসাবে জমি চাষ করে লাভ নেই। সরকারের উচিত এ দিকে নজর রাখা।
বিক্রেতা রফিক আলী বলেন, যেসব পণ্য আমরা বিক্রি করছি কোনোটিই নিজেরা উৎপাদন করি না, কিনে আনি। দেশে বাঁশের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে তাই দামও বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরি বেরেছে। অন্যান্য কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি- সব মিলিয় এই দাম নির্ধারণ করা হয়।
ত্রিপল বিক্রেতা সাজাদ মিয়া বলেন, আমরা ব্রয়লার বস্তা, ত্রিপল ও টাইল বিক্রি করি। দাম গতবারের তুলনায় সামান্য বেশি। ক্রেতারা আসছেন। ছোট, বড়, মাঝারি সব রকমের বস্তা আছে। বিভিন্ন সাইজের ত্রিপল ও টাইল বিক্রি করছি। বৈশাখী ধান তোলার ধুম পড়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন