ধান কাটতে গিয়ে গলদঘর্ম কৃষক

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৫০

-ছবি. সুখবর

ডিজেল কম পাওয়া, কাদা মাটির রাস্তাসহ নানান দুর্ভোগ নিয়ে সংকটময় সময় পার করছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। ডিজেল অপর্যাপ্ততার কারণে হাওরের পাকা ধান কাটতে দুর্বিসহ সময় পার করছেন হারভেস্টার মালিকরা। 

 


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, হাওরে ধান কাটার জন্য উপজেলাতে ৬৮টি হারভেস্টার মেশিন রয়েছে। এ বছর উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, আঙ্গারুলি হাওর, মাটিয়ান হাওর, মহালিয়া হাওর ও বর্ধিত গুরমার হাওরে ১৭ হাজার ৮০৯ হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট হাওরগুলোর স্থানীয় কৃষকগণ জানিয়েছেন, তাহিরপুর উপজেলাতে সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি বছর বোর ধান চাষাবাদ হয়েছে।

 


জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল তারিখে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে হারভেস্টার মালিকদের নিয়ে ধান কাটার বিষয়ে উপজেলাতে একটি সভা করা হয়। সভায় উপস্থিত হারভেস্টার মালিকদের জানিয়ে দেয়া হয়- ডিজেলের কোন সংকট নেই। নির্ধারিত রেটে তারা যেন হাওরে কৃষকদের ধান কাটে। কিন্তু বাস্তবে হাওরে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কথা হয় মাটিয়ান হাওরপাড়ের বড়দল গ্রামের কৃষক হারভেস্টার মালিক মুছিহুর রহমান মিলনের সাথে। তিনি জানান, আমাদেরকে গত ৫ এপ্রিল কৃষি অফিস থেকে কর্মকর্তারা বলে দিয়েছিলেন ডিজেলের কোন সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টো চিত্র দেখছি। ডিলারদের নিকট থেকে ডিজেল কেনার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে একটি টুকেন দেয়া হয়। ডিজেলের টুকেন পেতে হলে এনআইডি কার্ড, হারভেস্টারের কাগজপত্রে কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিতে গিয়ে সিরিয়াল লাইনে দাঁড়িয়ে দিন পার হয়ে যায়। এদিকে টুকেন নিয়ে কোন রকম ডিলারের দোকানে পৌঁছতে পারলে ডিলার বলে দেয় আজ ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। তারপর ডিজেল না নিয়ে খালি ট্যাংকি হাতে ফিরতে হয়। এমতাবস্থায় তারা বাধ্য হয়েই ডাম্পের বাজার, শ্রীপুর বাজার ও তাহিরপুর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ১৫০ টাকা দরে প্রতি লিটার ডিজেল কিনে হাওরে কৃষকদের ধান কাটছেন।


আবার অনেক কৃষকদের বলে দিই তারা ডিজেল এনে দিলে ডিজেলের মূল্য বাদ দিয়ে তিনি ধান কেটে দিবেন। তিনি জানান, প্রতি লিটার ডিজেল তিনি বিভিন্ন হাট থেকে ১৫০ টাকা দরে কিনেছেন।

 


শনির হাওরপাড়ের হারভেস্টার মালিক উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক নাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি বিগত বছরে পাম্প থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা ১০ পয়সা দরে কিনেছেন। বর্তমানে তিনি ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১১০ টাকা দরে কিনেছেন। গতকাল ডিজেলের মূল্য সরকার বৃদ্ধি করার পর কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে তা তিনি জানেন না বলে জানান।

 


ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক দুটি হারভেস্টার মালিক আতিকুর রহমান বলেন, তিনি অনেক আগ থেকেই ডিজেল সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। শনির হাওরে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। শনির হাওরের কৃষকদের ধান কেটে উঠাতে কোন সমস্যা হবে না। এ পর্যন্ত শনির হাওরে ২০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে বলে তিনি জানান।


মহালিয়া হাওরপাড়ের সুলেমানপুর গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাসভেস্টার মালিকরা এ বছর প্রতি কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) ২ হাজার টাকা দরে ধান কাটছেন। বিগত বছর ১৭’শ থেকে ১৮’শ টাকা নিয়েছিল। ডিজেল সংকটের কারণে কৃষকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই অধিক মূল্যে ধান কাটাচ্ছেন। তবে হাওরে যে হারভেস্টারগুলো আছে তা একদিন ধান কাটলে দু’দিন মেশিন বিকল থাকে।

 


ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক এবাদুল ইসলাম বলেন, হাওরে এবছর দুর্ভোগের শেষ নেই। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তায় কাদাপানি জমা রয়েছে। ডিজেলের সমস্যা তো আছেই।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, হারভেস্টার মালিকদের ডিজেল পেতে যেন হয়রানির শিকার না হন সে লক্ষে হারভেস্টার মালিকরা তাদের এনআইডি কার্ড, হারভেস্টার মেশিনের কাগজপত্র আমাদের অফিসে নিয়ে আসলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ডিজেল ডিলারের নিকট দিয়ে থাকি।


সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, হাওরে ধান কাটার সুবিধার্থে উপজেলার ৩ শুল্ক স্টেশনে কয়লা ও চুনাপাথ পরিবহন এবং জেলার বৃহৎ বালুপাথরমহাল যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন ১ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার