উভয়সংকট

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:২৬

দীর্ঘ এক মাস যাবত টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরের জাঙ্গাল একেবারেই বেহাল দশা। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টিপাতের ফলে ধান কাটা, ধান শুকানো, ধান পরিবহন অত্যান্ত দুঃসাধ্য হয়ে  দাঁড়িয়েছে। এখনো ধান কাটা কোন হাওরে শেষ হয়নি। অন্যদিকে শত শত মণ ধান ভেজা অথবা আধা শুকনা অবস্থায় শুকানোর জন্য ধানের খলাতে পড়ে আছে। আবার কোথাও কোথাও স্তুপীকৃত ধানে চারা গজিয়েছে।

 


মাটিয়ান হাওরপাড়ের বড়দল গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, তার ধান কাটার বাকি রয়েছে প্রায় আট কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার)। ধান শুকানোর অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৪’শ মণ। এ বছর ৩ থেকে ৪ রোদ ছাড়া ধান শুকানো কোন কৃষকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। অথচ বিগত বছরগুলোতে মারাই শেষে ধানে দুই রোদ লাগানোর পর চিটা ছাড়িয়ে গুলাতে উঠিয়েছি। 

 


তিনি ক্ষোভের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি প্রশাসনের সাথে হাওরে আসা এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেছেন, চলতি বছরের আবহাওয়া নাকি ধান শুকানোর জন্য খুবই অনুকূল, একটা রোদেই ধান শুকায়। ধান কাটা ও ধান শুকানোর যন্ত্রের কি প্রয়োজন? এতে আমরা খুবই দুঃখ পেয়েছি। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, কৃষির সাথে সম্পৃক্ত নন এসব ব্যক্তি যেন হাওরে প্রশাসনের সাথে কৃষি পরিদর্শনে যন তাদের সাথে না আসেন।
বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ভবিষ্যতে কৃষকদেরকে ভর্তুকিতে ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন অধিক পরিমাণ সরবরাহ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, হাওরের অভ্যন্তরে ব্যাপক হারে খাল খনন একই সাথে রাস্তা নির্মাণ এবং পাকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

 


ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মুখলেচুর রহমান বলেন, শনির হাওরের নীচু অংশের প্রায় ৩ হাজার একর জমি ধান টানা বৃষ্টিতে পানির নীচে তলিয়ে গেছে। তাহার ৫ কিয়ার জমি ধান িেতয় গেছে।
শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক এমদাদুল হুদা বলেন, এবার কৃষি দুর্দশার কথা বলে শেষ করা যাবে না। এটুকুই বলতে পারি, যেটুকু কেটেছি পচার পথে। আর যেটুকু কাটা হয়নি সেটুকুও উঠানো অনিশ্চিত।
মাটিয়ান হাওপাড়ের আনন্দ নগর গ্রামে কৃষক ওয়াসিম আহমদ বলেন, কৃষিতে এমন দুর্দিন আর কখনো তিনি দেখেননি। ধান কাটলেও বিপদ না কাটলেও বিপদ। ধান কাটলে শুকানো যায় না আর না কাটলে বৃষ্টির পানির নীচে তলিয়ে যায়।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, আমি খলায় খলায় ঘুরে কৃষকদের সমস্যা ও তাদের আহাজারি শুনেছি। অনেক কৃষক কাটা ধান নিয়ে রোদের অপেক্ষায় দিনের পর দিন বসে আছে, অনেকের ধানে আবার চারা গজাচ্ছে। এ সমস্ত বিষয় দেখে আমার খুবই খারাপ লেগেছে। এ সমস্ত বিষয়গুলো তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং কৃষকদের প্রণোদনার বিষয়েও কথা বলবেন বলেও তিনি জানান।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার