৭ দিন পর জামালগঞ্জে স্বস্তির রোদ, কাটেনি কৃষকের আতঙ্ক

প্রকাশিত: ০৩ মে, ২০২৬ ২৩:২৯

জামালগঞ্জে হাওরের নিম্নাঞ্চলে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। টানা সাত দিনের বৃষ্টির পর রবিবার সকাল থেকে জামালগঞ্জ উপজেলা জুড়ে রোদ উঠেছে। এতে বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দুর্যোগের ভয় কাটেনি এখনও। একদিকে মাঠে জমে থাকা পানি, অন্যদিকে কর্দমাক্ত খলা এই পরিস্থিতিতে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে সরকারি পাকা রাস্তায় মাড়াই ও শুকানোর মাধ্যমে ফসল রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছে।
এদিকে সঙ্গে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কার আভাস দিয়েছে। 

 


সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় উঁচু জায়গায় ত্রিপাল ও নেট জাল বিছিয়ে ধান শুকানোর কাজ করছেন অনেকেই। আবার অনেকে পাশের সড়কে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করেছেন। কেউ কেউ আবার খলায় স্তুপ করে রাখা ধান রোদে নেড়ে দিচ্ছেন। কয়েক দিনের নিস্তব্ধতার পর আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে হাওরের কৃষকদের মধ্যে। কেউ কেউ হাওরে কেটে রাখা ধান নৌকা ও ঠেলাগাড়িতে করে খলায় নিয়ে আসছেন। হাওরের বড় বড় কৃষকের খলাগুলোতেও ফিরেছে প্রাণ। যেসব খলায় বোরো মৌসুমে প্রতিদিন শত শত কৃষক-শ্রমিক কাজ করতেন, সেখানে গত সাত দিন ছিল নিস্তব্ধতা। গতকাল সকাল থেকে আবার নারী-পুরুষ সবাই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

 


তবে স্বস্তির আড়ালে রয়েছে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবার যারা কিছু ধান কাটতে পেরেছেন, তাদের খলায় রাখা ধানের মধ্যে চারা গজিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকেই এখনো ধান কাটতে পারছেন না। ফলে কৃষকের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

 


জামালগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের লম্বাবাক গ্রামের কৃষক মো. ছবর আলী কেঁদে কেঁদে বলেন, কয়েক দিন পর রোদ এসেছে। হাওরের কোমর পানিতে ডুবে থাকা ফসল কেটে জাঙ্গালে রেখে এসেছি। এখন রোদ উঠেছে- জাঙ্গালের ধান আনব, নাকি খলায় চারা গজানো ধান শুকাব, বুঝতে পারছি না। ৭৫ বছর বয়সেও তিনি ছেলেদের নিয়ে কাজে নেমে পড়েছেন। আবহাওয়া খারাপ থাকায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, তাই নিজেরাই কাজ করছেন।


একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, খলায় প্রায় অর্ধশত মণ ধানে চারা উঠে গেছে। সেই ধান শুকাতে কাজ করছি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে টানা বৃষ্টির কথা থাকায় শ্রমিক ঠিক করতে পারিনি। এখন নিজেরাই সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করছি। জানি না আল্লাহ কপালে কী রেখেছেন। তবে রোদে কিছুটা হলেও ধান শুকাতে পারব।

 


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আজ রোদ উঠায় যারা খলায় কাটা ধান মাড়াই ও শুকাতে পারেননি, তারা এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। অবশিষ্ট মাঠের ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার নদীগুলোতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, এ কারণে সুনামগঞ্জের হাওরগুলো তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার