বিদ্যুতের খুঁটি সড়কে রেখেই ঢালাই

প্রকাশিত: ০৫ মে, ২০২৬ ২৩:১৯

সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সুনামগঞ্জের আলফাত স্কয়ার থেকে হাসন রাজা তোরণ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার ফোরলেন সম্প্রসারণ কাজ চলছে। কাজের শুরু থেকেই সড়কের দুই পাশের গাছ অপসারণ এবং বিদ্যুতের খুঁটি সরানো নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বন বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে চলে আসছে রশি টানাটানি। এখন বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের ভিতরে রেখেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।   


জানা গেছে, ইতোমধ্যে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ সড়কের গাছগুলো অপসারণ করলেও বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণে ফোরলেন কাজে ধীরগতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে শুরু করে হাসন রাজা তোরণ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটারের এই সড়কের মাঝখানে রয়েছে প্রায় তিন শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি।

 


সড়ক ও জনপথ (সওজ) বলছে, বিদ্যুৎ বিভাগ খুঁটি স্থানান্তরিত করতে বিলম্বিত করছে। ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে এই কাজে। অথচ তাদের এই কাজ ঢিলে হওয়ার কারণে সড়কের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সড়কের সাইট উন্নয়ন না করায় বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরিত করা যাচ্ছে না। তবে সড়কের পশ্চিমের অংশের কাজ শেষ পর্যায়ে এবং পূর্বদিকের খুঁটি স্থানান্তরিত করার কাজ চলমান আছে। 
সূত্র জানায়, ফোরলেনের কাজ ২০২৫ সালের জুন থেকে কাজ শুরু হয় এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই কাজে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে দেড়শত কোটি টাকা। কাজ শেষ হলে সুনামগঞ্জবাসী দীর্ঘদিনের কাক্সিক্ষত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। যানজট, জনদুর্ভোগ, দুর্ঘটনা কমে আসবে। কিন্তু দুই পক্ষের দোষারোপের কারণে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। 

 


অটোরিকশা চালক দবির মিয়া বলেন বলেন, শহরে আসা-যাওয়া করতে একমাত্র সড়কপথ এটি। অথচ যানজট লেগেই থাকে। গাড়ি নিয়ে সময়মতো শহরে প্রবেশ করা যায় না। দুর্ঘটনাও ঘটে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাই। ফোরলেন হলে স্বস্তি ফিরে পাবো। যানজট কমবে, দুর্ঘটনা হবে না। কিন্তু ঢিলেঢালা ভাবে কাজ হচ্ছে। আবার তাড়াহুড়া করে বিদ্যুতের খুঁটি ভিতরে রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কাজের মান ভালো হবে কি না, এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সড়কে যদি খুঁটি রেখে কাজ কওে, তাহলে এ সড়ক দিয়ে যানচলাচল করবে কীভাবে? 
সুনামগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, আমরা যখন গাড়ি নিবন্ধন করতে যাই, তখন সরকারকে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। সড়কের কাজে গাফিলতির জন্য আমরা সাফার করতে পারি না। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ে কাজটি সম্পন্ন হোক।


সুনামগঞ্জ  সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ফোরলেন কাজ শুরু করার পর সবচেয়ে বেশি স্ট্রাগল করছি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে। আমরা ২০২৪ সালে পিডিবি সংস্থাকে সকল অর্থ পরিশোধ করে দিয়েছি। সেই লক্ষে কিন্তু বাই দিস টাইম তাদের খুঁটি স্থানান্তরিত হওয়ার কথা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তাদের খুঁটিগুলো অল্প অল্প করে সরানো হচ্ছে। ফলে আমাদের কনস্ট্রাকশন কাজ ব্যাপকভাবে ব্যহত হচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু, তারা আজকে - কালকে, পরশু করে করেই সময় পার করছে। এতে করে আমাদের যে ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অনুযায়ী যে সিডিউল ছিল, সেই সিডিউল কোনো অবস্থাতেই ধরে রাখতে পারছি না। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগকে আরও এক্টিভ হতে হবে। আমাদের সকল জায়গাতে সাইড ডেভেলপমেন্ট করা আছে। আর বিদ্যুৎ বিভাগ যদি মনে করে আমাদের সাইড ডেভেলপমেন্ট করা দরকার, সেই ক্ষেত্রে তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তা করে দেব। সাইড ডেভেলপমেন্ট কোনো ইস্যু না, এটা আমি মনে করি অযৌক্তিক। বর্তমানে বন বিভাগের গাছ কাটা শেষ হয়েছে।  বিদ্যুৎ এর খুঁটিগুলো স্থানান্তরিত হলে দ্রুতগতিতে কাজটি সম্পন্ন করতে পারব। 

 


বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এতে কাজের গুণগত মান নিয়ে সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন রয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক্সুয়েলি খুঁটি রেখে কোনো কাজ করা হচ্ছে না। যেখানে খুঁটি আছে, সেখানে প্যানেল করতে পারছি না। এতে করে কাজে ঢিল হচ্ছে। এটাও ঠিক খুঁটিগুলো আস্তে ধিরে অপসারণ করলে খুঁটির জায়গাতে কমপেকশন কম থাকবে। সেটার জন্য আমাদেরকে স্পেশালি কম্পেক্ট করে নিতে হবে। সেটার জন্য আমাদেরই কষ্ট হবে। রাস্তার কোয়ালিটির কোনো হেম্পার হবে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ বলছেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় ফোরলেন কাজের পূর্ব এবং পশ্চিম পাশের দু'টি লটে আমাদের বৈদ্যুতিক লাইন পূনঃস্থাপনের কাজ চলমান আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের পশ্চিম পাশের কাজের আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে।  পশ্চিম দিকের বৈদ্যুতিক লাইন টানা হয়েছে।  হাসন রাজা তোড়ন থেকে কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত ৩৩ কেভির কাজ চলমান আছে। আর ১১ কেভির একটা সার্কিট রেডি হয়ে গেছে, আরেকটা সার্কিটের আংশিক বাকি আছে। আর পূর্ব দিকের খুঁটির কাজ এখনও শেষ করা যায় নি। মাসখানেকের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার