প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬ ২২:৪৪
হাওরবেষ্টিত জামালগঞ্জ উপজেলায় প্রায় এক মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) না থাকায় প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সেবা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ত্রাণ কার্যক্রম, কৃষি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও দাপ্তরিক সমন্বয়ে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। প্রশাসনিক অভিভাবক না থাকায় বিভিন্ন দপ্তরে শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল ছিল মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বদলি হওয়া সাবেক ইউএনও মুশফিকীন নূরের শেষ কর্মদিবস। পরে জামালগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউএনও হিসেবে প্রথমে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ইউএনও বিপুল সিকদারের পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও তিনি এখানে যোগদান করেননি। এরপর জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে জামালগঞ্জে পদায়ন করা হয়। কিন্তু তিনিও এখন পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। সবশেষে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ইউএনও আব্দুল মতিন খানকে। তবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করতে পারছেন না।
স্থানীয়রা জানান, একটি উপজেলার প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে ইউএনও কার্যালয়। ইউএনও না থাকলে শুধু একটি চেয়ার খালি থাকে না, পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাই থমকে যায়। বর্তমানে জামালগঞ্জে সেই চিত্রই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জন্মনিবন্ধন, নাম সংশোধন, ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র, মোবাইল কোর্ট, টিসিবি কার্যক্রম, ভিজিডি-ভিজিএফ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর তালিকা যাচাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি ও সরকারি বরাদ্দ বণ্টনসহ নানা কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইলও দিনের পর দিন পড়ে রয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত, বাস্তব পরিস্থিতি পরিদর্শন কিংবা জরুরি সহায়তা কার্যক্রমেও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমেও সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ইউএনও না থাকায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিয়মিত অফিস করছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা সমশের আলী বলেন, এ উপজেলায় ইউএনও না থাকায় প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
রীনা দাস বলেন, নারীদের বিভিন্ন সরকারি কাজে ইউএনও অফিসে যেতে হয়। এখন গেলে নির্দিষ্ট কাউকে পাওয়া যায় না।
কৃষক ফকির মিয়া বলেন, হাওরের কৃষকরা এবার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠে কাউকে দেখা যায় নি।
সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, জামালগঞ্জে দ্রুত একজন পূর্ণাঙ্গ ইউএনও নিয়োগ প্রয়োজন। বর্তমানে জনগণের সরকারি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভীমখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, জামালগঞ্জ হাওরাঞ্চলের একটি দুর্যোগপ্রবণ উপজেলা। এখানে সব সময় প্রশাসনিক তৎপরতা প্রয়োজন। কিন্তু গত এক মাস ধরে এখানে কার্যকরভাবে ইউএনও দায়িত্ব পালন করছেন না।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ইউএনও ও জামালগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান বলেন, আমি জামালগঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছি। কাজের প্রয়োজন হলে সেখানে যাওয়া হয়। দুই জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, এটা সত্য। তবে আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জামালগঞ্জে নতুন একজন ইউএনও যোগদান করবেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন