প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ২৩:১১
তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটের দুর্গন্ধে পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান নেয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটের পশ্চিমের দেয়াল ঘেঁষে তাহিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিপলা পাঠদান কক্ষ, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ এবং প্রথম শ্রেণির পাঠদান কক্ষ রয়েছে। তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটটি নতুন ষষ্ঠতলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণ শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন সময় ধরে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু যথাযথ ও যত্ন সহকারে ব্যবহার না করায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে সেফটি ট্যাংকির মলমুত্র চারপাশে উপচে পড়ছে। এতে প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের শ্রেণি কার্যক্রম শেষে অফিস কক্ষে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বারবার জানানোর পর এবং ঠিকাদারের লোকজনকে বারবার বলার পরও কোন প্রকার উদ্যোগ নিচ্ছেন না তারা।
নির্মাণ শ্রমিকদের পরিচালক সুলতান মিয়া বলেন, সেফটি ট্যাংকির মলমুত্রের চারপাশে দুর্গন্ধে দূর করার জন্য তিনি দুইবার কেরোসিন দিয়েছেন।
তাহিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসেন আহমদ তৌফিক বলেন, প্রচণ্ড দুর্গন্ধের মধ্যে বিদ্যালয়ের পাঠদান নিতে মারাত্মক বিপাকে আছি। দুর্গন্ধে শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবারই একই অবস্থা।
বিদ্যালয়ের ছাত্র অবিভাবক লুৎফুর রহমান লাকসাব বলেন, তিনি তিনদিন আগে বিদ্যালয়ে গিয়ে বসছিলেন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে, কিন্তু কিছুক্ষণ বসার পর তার বমি করার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তাহিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওনআরা বেগম বলেন, তাহিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটের সেফটি ট্যাংকির মলমুত্র চারপাশে উপচে পড়ছে। যার ফলে প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের শ্রেণি কার্যক্রম শেষে অফিসকক্ষে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফয়জুল হোসাইন বলেন, দুই সপ্তাহ আগে তাহিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক আমাকে এসে এই বিষয়ে জানিয়েছেন। এরপর আমি নির্মাণ শ্রমিকদের পরিচালক সুলতান মিয়াকে জানিয়ে দিয়েছিলাম টয়লেটের চারপাশে যেন তারা ফিনাইল বা অন্য কিছু জীবাণুনাশক জাতীয় দ্রব্য ছিটিয়ে দেয় নইলে আলাদা রিং ব্যবহার করে তারা যেন ব্যবস্থা নেয়। তিনি আরও বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি যদি তারা এগুলো না করে থাকে তাহলে টয়লেট তালাবদ্ধ করে রাখবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন