প্লাস্টিকের চাঁই নির্মূলে নেই পদক্ষেপ

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬ ২২:৫৫

টাঙ্গুয়ার হাওরে ভুগছে হাওর ও দরিদ্র জেলেরা

শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, সীমান্তবর্তী মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের প্রকৃতি ও প্রতিবেশ। চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টির মাত্রা বেশি থাকায় এরই মধ্যে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভরে উঠেছে স্থানীয় নদীগুলো। হাওরে ঢুকতে শুরু করেছে নতুন পানি।

 


প্রতিবছর নদী হয়ে হাওরে প্রবেশ করা এই নতুন পানির সঙ্গে আসে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সেই মাছ শিকারের জন্য হাওরজুড়ে স্থানীয় জেলেরা নেমে পড়েন প্লাস্টিকের চাঁই হাতে। হাওরের পরিবেশ ধ্বংসকারী এই যন্ত্রের ব্যবহার দৃশ্যমান হলেই শুরু হয় নানা তৎপরতা ও সমালোচনা। তবে এসব চাঁই প্রস্তুত, মজুত ও বিক্রি বন্ধে নিয়মিত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না প্রশাসনকে। যার কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের সর্বত্র প্লাস্টিকের চাঁই (মাছ ধরার বিশেষ যন্ত্র) দিয়ে চলছে অবাধে মাছ শিকার। তবে কোথা থেকে আসছে এই প্লাস্টিকের চাঁই, কারাই বা বিক্রি করছে- হদিস নেই কারও কাছে।

 


এ বছর চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর পানি বেড়ে হাওরে আগাম পানি প্রবেশ করেছে। এ সুযোগে স্থানীয় জেলেরা প্লাস্টিকের চাঁই দিয়ে অবাধে মাছ শিকারে নেমে পড়েছে। এসব চাঁইয়ে চিংড়িসহ নানা ধরনের ছোট ছোট মাছ বা পোনা মাছ ধরা যায় বলে দিন দিন এর ব্যবহার বাড়ছে। এছাড়া ক্ষতিকর এ যন্ত্রের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের তেমন তৎপরতা না থাকায় সে সুযোগটি নিচ্ছে অনেক জেলে।

 


পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার (পোহাস) সাধারণ সম্পাদক পীযূষ পুরকায়স্থ টিটু বলেন, প্লাস্টিকের চাঁইয়ের ব্যবহার রোধ করতে না পারলে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ অন্যান্য হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরও হুমকির মুখে পড়বে। এগুলোর ব্যবহার রোধে হাওরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবেশ বিধ্বংসী এসব প্লাস্টিক চাঁই জেলা শহর থেকে মিনি পিকআপ অথবা অটোরিকশায় তাহিরপুর উপজেলা সদর হয়ে নৌকাযোগে জেলেরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিয়ে যায়।

 


তাহিরপুরের টাঙ্গুয়া, শনি, মহালিয়া, মাটিয়ান, বনুয়ার, সমসার ও এরালিয়ার কোনা হাওর ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার পাঠাবুকা, সুলেমানপুর, লামাগাঁও, মানিকখিলা, রামসিংহপুর, জয়পুর গোলাবাড়ী, মন্দিয়াতা, ইন্দ্রপুর, বিনোদপুর, পানিয়াখালী, তেরঘর, কলাগাঁও, নবাবপুর, জামালপুর, শিবরামপুর, বেতাগড়া, মধ্যনগর উপজেলার রূপনগর, বাকাতলা, ইছামারী, রাজেন্দপুর, রংচি, আমানিপুর, নিশিন্ত বংশীকুন্ডা, সানুয়া, কাউহানী, খিদিরপুর, হাতপাটন গ্রামে জেলেরা মাছ ধরতে এসব চাঁই ব্যবহার করছে।
পানির নিচে সারিবদ্ধভাবে সুতা দিয়ে বেঁধে ময়দার টোপ অথবা শামুক দিয়ে এসব প্লাস্টিকের চাঁই রেখে দেওয়া হয়। সকালে এসব চাঁই তুলে এর ভেতর থেকে চিংড়ি ও ছোট মাছ বের করা হয়। চাঁইগুলো নষ্ট হয়ে গেলে সেগুলো আবার পানিতেই ফেলে দেওয়া হয়।

 


টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের গোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা খসরুল আলম বলেন, চাঁইগুলো প্লাস্টিকের হওয়ায় এগুলো অপচনশীল। এসব চাঁই পানিতে ফেলে দেওয়ায় তাতে হাওরের জলচর প্রাণীসহ মাছের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া এগুলোতে ছোট ছোট মাছ আটকে যাচ্ছে। এতে মাছের বংশবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়ছে।
লামাগাঁও গ্রামের কয়েস মিয়া বলেন, প্লাস্টিক মুড়িয়ে বাঁশের কঞ্চি ও তার দিয়ে তৈরি করা হয় গোলাকার চাঁই। ১০-১২ বছর আগে শুধু বাঁশের তৈরি চাঁই দিয়েই চিংড়ি মাছ ধরা হতো। কিন্তু কম খরচ এবং বারবার ব্যবহার করা যায় বিধায় প্লাস্টিকের চাঁইয়ের চাহিদা বেড়েছে।

 


খুলনা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক আহসান হাবিব বলেন, প্লাস্টিক চাঁইয়ের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এই হাওর। তাই সময় থাকতেই প্রশাসনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে চারটি অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক প্লাস্টিক চাঁই (কিরণমালা চাঁই) হাওর থেকে উঠিয়ে আগুনে পুড়িয়েছি। তাহিরপুর উপজেলা সদরে কোথায় বিক্রি করে বা তৈরি হয় এ সমস্ত তথ্য আমাদের কাছে নেই। সম্ভবত ওরা পার্শ্ববর্তী  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে নিয়ে আসে। প্লাস্টিক চাঁই দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার