হাওরপাড়ে নেই ঈদের প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬ ০০:৫৬

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু এ বছর ঈদের আনন্দ যেন নেই তাহিরপুর উপজেলার হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে। এমনকি ঈদ উদযাপনে নেই কোনো প্রস্তুতি। বরং দুঃখ আর বুকভরা হতাশা নিয়ে এ বছর ঈদ পালন করবেন হাওর পাড়ের মানুষজনেরা।

 


উপজেলার বিভিন্ন হাওরপাড়ের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, কৃষকের ঘরে এবারের ঈদ যেন বাড়তি কষ্ট নিয়ে এসেছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ না ভেঙে শুধুই বৃষ্টির পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ার বেদনা অন্যদিকে ঈদে ছেলে-মেয়েকে নতুন জামা কিনে দিতে না পারা আরেক যন্ত্রণা। শুধু তাই নয়, নাওয়া খাওয়া ভুলে পানি থেকে তুলে আনা ধান শুকাতে না পারার যন্ত্রণা। কষ্ট করে যা শুকানো হয়েছে তাও আবার কালচে রঙের ধান। যা কোন ক্রেতা বা পাইকারের নিকট বিক্রি করা যাচ্ছে না।
কৃষকরা জানান, এ বছর ধান রোপণের খরচের চাইতে ধান কাটা এবং উঠাতে গিয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ খরচ করতে হয়েছে তাদের।

 


কৃষকরা আরও বলেন, ঘরে খাবার নেই, এবারের ঈদটা আমাদের জন্য খুবই যন্ত্রণাদায়ক। কারণ ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা নতুন জামা কিনে দেওয়ার জন্য কান্নাকাটি করলেও তাদের কিছুই দেয়া সম্ভব নয়।
উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হুকুমপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, এবছর ফসল হারানোর কারণে তাদের গ্রামসহ আশপাশের কোন গ্রামে কুরবানী দেয়া হবে না। তিনি আরও জানান, যে পরিমাণ ধান পানি থেকে উঠানো হয়েছে শুকানোর পর তা একেবারে কালা রঙ ধারণ করেছে, এই ধান কোন ক্রেতা বা পাইকারের নিকট বিক্রি করা যাচ্ছে না।

 


তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক লগুছ মিয়া জানান, তার নিজের কোন জমি নেই। বর্গাচাষে তিনি অন্যের জমি চাষাবাদ করেন। তিনি জানান, এবছর তিনি বর্গা চাষে ৮ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমি চাষাবাদ করেছিলেন। ধান কাটা শেষে হয়েছে গত ১৫ দিনে আগেই। এখন পর্যন্ত তিনি জমির মালিকের বর্গার টাকাই পরিশোধ করতে পারেননি। ঈদের কেনাকাটার তো কোন প্রশ্নই আসে না।

 


তাহিরপুর বাজারের গার্মেন্টস তৈরী পোষাকের ব্যবসায়ী তানভির মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা খুই কম। তিনি জানান, তাহিরপুর বাজারের ব্যবসা বাণিজ্য গৃহস্থদের উপরই নির্ভর করে। যে বছর হাওরে ফসল ভালো হয় সে বছর বাজারে কেনাকাটা ভালো হয়।
উপজেলার রসুলপুর গ্রামের গরু পাইকার (গরু বিক্রেতা) আব্দুল আজিজ জানান, ঈদের মাত্র বাকী ৭দিন, কিন্তু এ পর্যন্ত একটি গরু বিক্রি করতে পারিনি। তিনি জানান, বিগত বছরে ঈদের ১৫ দিন আগেই ৩০ থেকে ৪০টি গরু বিক্রি করেছেন।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই সহায়তার অর্থ যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঈদের আগে পেতেন তাহলে কৃষকরা একটু স্বস্থির নিঃশ^াস ফেলতেন।

 


তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহিবুল ইসলাম বলেন, তাহিরপুরে ৯ হাজার ১৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। কিন্তু আমাদের কাছে নামের তালিকা রয়েছে ১৮ হাজার ৩১৭ জনের। নাম বাছাই করা একটি বড় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার এ সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলাতে ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে একটি সভা করা হবে। তিনি জানান, ঈদের আগে কৃষকদের সহায়তার টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্য থেকে ১৮ হাজার ৩১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার প্রদানের জন্য তালিকা তৈরি করে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ৯ হাজার ১৬৭ জন কৃষকের নাম অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার