দেশিতেই চাহিদা বেশি

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬ ২২:৫৫

জামালগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে জামালগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর ব্যস্ততা শেষ করে কৃষকরা এখন কোরবানির পশু কেনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। উপজেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভীমখালী হাটের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে মন্নানঘাট এবং সাচনা বাজারও কোরবানির পশুর হাট হিসেবে সর্বমহলে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় এই হাটগুলোতে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে এবার হাটের চিরাচরিত চিত্রে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। এতে অধিকাংশ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। এই আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বিদেশি বা অতিরিক্ত বড় আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ এবার বেশ কম। তুলনামূলকভাবে মাঝারি ও ছোট সাইজের দেশি গরুর চাহিদাই এবার সবচেয়ে বেশি।

 


বিক্রেতা ও খামারিরা জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবার পশুর খাদ্যের (যেমন- ভুষি, খৈল ও খড়) দাম আকাশছোঁয়া। সেজন্য পশুর লালন-পালন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়েই তারা অন্য বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি চাচ্ছেন। এর বিপরীতে ক্রেতারা তাদের সীমিত বাজেটের মধ্যে পশু খোঁজার চেষ্টা করছেন। হাট জমে উঠলেও দর-দামে বনিবনা না হওয়ায় সেই অনুপাতে কেনাবেচা এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বেচাকেনা তত বাড়বে বলে আশা করছেন হাটের ইজারাদারেরা।
সরেজমিনে মন্নানঘাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শত শত গরু ও ছাগল বিক্রির জন্য হাটে আনা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা ভিড় করছেন। হাটে আসা পশুর বেশিরভাগই সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে খামারিদের যত্নে লালন-পালন করা। বিগত বছরগুলোতে সাদা রঙের বড় বিদেশি গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এবার ক্রেতারা সেগুলোর দিকে তাকাচ্ছেনই না বললেই চলে।


হাটে আসা আবুল কালাম নামে এক ক্রেতা আক্ষেপ করে জানান, হাটে সব জাত ও আকারের গরু রয়েছে। আমরা প্রতিবছর দেশি গরু কোরবানি দিই। তবে এবার দেশি গরুর দামও সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে মনে হচ্ছে। বিক্রেতারা যে দাম চাচ্ছেন, তাতে মধ্যবিত্তের বাজেটের মধ্যে পছন্দসই গরু কম মিলছে। আশাকরছি দুই-একদিন পর দাম কিছুটা কমবে।

 


অন্য এক দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা পশু বিক্রেতা মো. আমির হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০টি গরু নিয়ে মন্নানঘাট বাজারে এসেছি। বাজারে প্রচুর ক্রেতা থাকলেও তারা দাম শুনে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত মাত্র ১২টি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। আশা করেছিলাম এই হাটেই সব বিক্রি হবে, কিন্তু তা না হওয়ায় বাকি ২৮টি গরু শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভমভমি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাব। পরিবহন খরচ বাড়ায় আমাদের লোকসানের শঙ্কা কাজ করছে।


সংবাদপুর গ্রামের প্রান্তিক খামারি মো. বাদশা মিয়া বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের ৬০০ থেকে ৭০০ কেজি ওজনের ৪টি বড় জাতের গরু নিয়ে হাটে এসেছি। সারা বছর অনেক টাকা খরচ করে এদের পেছনে খাটুনি দিয়েছি। কিন্তু হাটে বড় গরুর কোনো কদর নেই, ক্রেতারা এসে দামও জিজ্ঞেস করছে না। যদি এই হাটে ন্যায্য দাম না পাই, তবে বাধ্য হয়ে এই গরুগুলো নিয়ে সিলেট শহর অথবা জাউয়াবাজারে যেতে হবে।


হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, পশুর দামের পাশাপাশি হাটের হাসিল (টোল) আদায়ের বিষয়টিও তাদের ভাবিয়ে তুলছে। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, যেন ইজারাদারেরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে না পারে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার সামছুল হক জানান, উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ৫৫টি নিবন্ধিত পশুর খামার রয়েছে। এর বাইরেও অসংখ্য সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এক বা একাধিক কোরবানির পশু লালন-পালন করেছেন। সেজন্য এবার আমাদের উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার চেয়েও উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে। আসন্ন ঈদে হাটে কোনো অসুস্থ পশু যেন বিক্রি না হতে পারে সেজন্য আমাদের মেডিকেল টিম তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি পেশাদার ও মৌসুমি কসাইদের স্বাস্থ্যবিধি ও চামড়া সঠিক নিয়মে ছাড়ানোর বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। পশুর চামড়া যেন সঠিক মূল্যে বাজারজাত করা যায়, সে বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অফিস সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, উপজেলার প্রতিটি পশুর হাটে পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড় মনিটরিং ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদে…

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার