প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬ ২০:৩৯
২৭০০ কৃষক পাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত সহায়তা
সংগৃহীত ছবি
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রায় কোটি টাকার ৫৪টি প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলহানির শিকার ২৭০৩ জন কৃষক পাচ্ছেন সরকারি সহায়তা। এই তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে।
পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি ৫৪টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ২৯টি। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য ৪০ লক্ষা টাকা। কাবিটায় রয়েছে ১৬ প্রকল্প। এগুলো বাস্তাবায়নে জন্য আরো ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা)’র ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫৬ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লক্ষ টাকা। এছাড়াও উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ২৭০৩ জন কৃষক পাবেন প্রত্যেকে ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল।
প্রতিমাসে এ বরাদ্দগুলো তারা পাবেন। চলতি সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে সহায়তা পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। বাকী প্রকল্পগুলো এ জুনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দরগাপাশা ইউনিয়নে ৪৯০, জয়কলস ইউনিয়নে ৩০৯, পাথারিয়ায় ৩৯০, পূর্ব পাগলায় ১৯৬, পশ্চিম পাগলায় ১২৭, শিমুলবাকে ৬৮০, পূর্ব বীরগাঁওয়ে ২০০ ও পশ্চিম বীরগাঁওয়ে ৩১১ জন কৃষক পাবেন এ সহায়তা। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. কয়ছর আহমদের হাত ধরে প্রায় কোটি টাকার এই উন্নয়ন পেয়ে খুশি শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তবে, ছাপা ক্ষোভ আছে বঞ্চিতদের মাঝেও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেখার হাওরের এক কৃষক বলেন, অনেকের নাম দেওয়া হয়েছে যারা ক্ষতিগ্রস্ত নয়। অনেক ক্ষতিগ্রস্তদের নাম নেওয়া হয় নি। কৃষি সহায়তায় স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
কাঁচিভাঙা হাওরের কৃষক গিয়াস মিয়া ও সিন্ধু দাস, দেখার হাওরের কৃষক হাফিজ আবুল কালাম ও সাইদুর রহমান বলেন, অতি বৃষ্টিতে আমাদের ক্ষতি হয়েছে। লোকাল নেতারা আমাদের নাম নিয়েছেন। তারা বলেছেন আমরা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল পাবো। এটি আমাদের জন্য অনেক উপকার হবে।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়নে ১৬ লক্ষ ২০ টাকা টিআর, কাবিখা ও কাবিটায় বরাদ্দ পেয়েছি। চাল পেয়েছি ৭ টন। এ নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি খুবই খুশি। ইউনিয়নব্যাপী সর্বসম্মতিক্রমে এসব বরাদ্দ বণ্টন করা হয়েছে।
পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম—আহ্বায়ক ও প্রাক্তন ইউপি সদস্য আক্কাস মিয়া বলেন, আমরাও ১০ লক্ষ টাকা পেয়েছি। ৭ টন চাল পেয়েছি। বরাদ্দ পাওয়ার পর আমাদের এখানকার নেতাকর্মীরা খুশি। সাধারণ কৃষকরা কৃষক সহায়তা পাবে এটি ভেবেও অনেকে আনন্দিত।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি জালাল উদ্দিন, প্রথম যুগ্ম—আহ্বায়ক রওশন খান সাগর ও যুগ্ম—আহ্বায়ক আবুল কাশেম নাঈম বলেন, এমন বরাদ্দ আগেও এসেছে। কিন্তু কেউ জানতো না। গোপনে করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহামন ও আমাদের নেতা, মাননীয় সংসদ সদস্য কয়ছর এম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, প্রকাশ্যে যাচাই বাচাই করে এই কাজগুলো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও উপকারভোগীদের দেওয়া হয়। প্রতি ইউনিয়নে কাজগুলোকে আনুপাতিকহারে সমবণ্ঠন করার চেষ্টা করেছি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা সকলের সহযোগিতায় নামের তালিকা বা প্রকল্পগুলো প্রস্তুত করেছি। চলতি মাসে সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশা করছি। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন