সকলের সহযোগিতায় বাঁচতে পারে প্রীতম

প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৭:২০

আড়াই বছরের ছোট্ট শিশু প্রীতম চন্দ রয়। এই বয়সে দুরন্তপনায় মেতে থাকে প্রীতমের বয়সের শিশুরা। দুষ্টুমি করে বেড়ায় বাড়ির আঙিনায়। তা দেখে মন জুড়ায় মা—বাবার। কিন্তু প্রীতমের বাবা—মায়ের দিন যাচ্ছে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে। ছোট্ট প্রীতম জন্ম নিয়েছে মরণব্যাধি হার্টের রোগ নিয়ে। যার জন্য অন্যান্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছে না সে। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে হারিয়ে ফেলে জ্ঞান। খেলতে পারে না বাড়ির অন্যান্য শিশুদের সাথে। 

 

ডাক্তার জানিয়েছেন,  প্রীতম জন্মগত ভাবে হার্টে ছিদ্রের সাথে জটিল আরও তিনটি রোগ নিয়ে জন্ম নিয়েছে। তার হার্টের পুরো সিস্টেম উলট পালট হয়ে গেছে। মেডিসিন দিয়ে এমন রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। একমাত্র সার্জারী অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করতে হবে। সার্জারী করার পরও অনেক ঝুঁকি থেকে যাবে। 

 

প্রীতমের মা কৃষ্ণা চন্দ শীল বলেন, জন্মের পর থেকে যখন বুকের দুধ খেতো তখন বুকে আটকে সারা শরীর শক্ত হয়ে অজ্ঞান যেত। ঠান্ডা লাগলে তার গায়ের রঙ কালো, নীল বর্ণ হয়ে যেত। এরকম মাস খানিক যাওয়ার পর আমরা ডাক্তার দেখাই। তখন জানতে পারি আমার ছেলে এতো বড় সমস্যা নিয়ে জন্ম হয়েছে। এরপর থেকে ঔষধ চলতেছে কিন্তু উন্নতি হচ্ছে না। এখনো সে হাঁটতে গেলে পড়ে যায়। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। 

 

মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ার হাওর পাড়ের দুর্গম এলাকা শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের উৎপল ও কৃষ্ণা দম্পতির সন্তান প্রীতম চন্দ। বাবা উৎপল চন্দ শীল একজন মানসিক রোগী, মা কৃষ্ণা গৃহবধূ। মানসিকভাবে অসুস্থ হলেও ছেলের কষ্টের অনুভব ঠিকই হয় বাবার। তা দেখে অঝোরে চোখের জল ফেলেন মানসিক রোগী বাবা। প্রীতম আর তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী প্রীতমের চাচা উত্তম চন্দ শীল। পেশায় নরসুন্দর উত্তম তার মানসিক রোগী বড় ভাই, পরিবার আর অসুস্থ ভাতিজাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। 

 

চাচা উত্তম চন্দ শীল বলেন, আমি পরিবারের সবার ছোট। বড় ভাইয়েরও মানসিক সমস্যা। পরিবার চালাতেই আমি হিমসিম খাই। অসুস্থ ভাই আর ভাতিজাকে কিভাবে চিকিৎসা করাব। অর্থাভাবে ধার দেনা করে করে আড়াই বছর ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। ওষুধে আর কাজ না হওয়ায় ভাতিজাকে বাঁচাতে সৃষ্টিকর্তা’র উপরই ভরসা। বিত্তবানদেরও সহযোগিতা চাইলেন তিনি। 

 

প্রতিবেশী যুবক কাহার খান বলেন, এই পরিবারটা অনেক গরিব। তার মধ্যে তার ভাইও অসুস্থ। ভাতিজাকে নিয়ে সুনামগঞ্জ—সিলেট—ঢাকা চিকিৎসার জন্য দৌঁড়াদৌঁড়ি করে দুইলক্ষ টাকার মতো শেষ। কিছু টাকা আমরা বন্ধুবান্ধব ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকি টাকা ঋণ করে এনে ভাতিজার চিকিৎসার পেছনে খরচ করেছে। এখন বিত্তবানরা এগিয়ে আসলেই প্রীতমকে বাঁচানো সম্ভব। 

 

প্রীতম ঢাকার স্বাধীনতা পুরষ্কার প্রাপ্ত চিকিৎসক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক নুরুন নাহার ফাতেমার চিকিৎসাধীন। ব্যবস্থাপত্র দেখে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের সাবেক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈকত দাস বলেছেন, বাচ্চাটি হার্টে জন্মগত ভাবে ছিদ্র নিয়ে জন্ম নিয়েছে। তার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি জটিল সমস্যা রয়েছে। যার কারণে মেডিসিন দিয়ে আর কিছু করা সম্ভব নয়, সার্জারী এখন একমাত্র সমাধান। এই সার্জারী যথেষ্ট ব্যয়বহুল। সরকারি ভাবে করাতে গেলেও ৫—৭ লক্ষ টাকার প্রয়োজন।  দ্রুত হার্টের সার্জারী না করলে হয়তো জীবন—মরণের সন্ধিক্ষণে এসে গেছে প্রীতমের প্রাণ। সার্জারীর জন্য প্রয়োজন ৭—৮ লক্ষ টাকা। 
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার