প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ২২:২০
উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ডুবুরি সেকসন চালুর দাবি এলাকাবাসীর
নদী ও হাওরে আগাম পানি আসার শুরু থেকে তাহিরপুর উপজেলায় পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলাতে ফায়ার সার্ভিসের অফিস ও অফিসের জনবল ঠিকই রয়েছে। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের জনবলে ডুবুরি না থাকায় প্রতিটি দুর্ঘটনা স্থলে সংবাদ পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন উপস্থিত হয়ে জানায়, তাদের অফিসে ডুবুরি দল নেই। সেখান থেকে আবার সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। অর্থাৎ প্রতিটি দুর্ঘটনাস্থলে ঘটনার ৩ ঘন্টা পরে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।
তাহিরপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম আখঞ্জি বলেন, তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসে আগুন নেভানোর লোকজন আছে কিন্তু ডুবুরি না থাকায় তাহিরপুর উপজেলাতে কেউ পানিতে ডুবে গেলে সুনামগঞ্জ থেকে ডুবুরি দল এনে উদ্ধার করতে হয়।
টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটক নিয়ে চলাচলকারী নৌ—চালক শিবলী আহমদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, নিলাদ্রী লেক, ট্যাকেরঘাট, বারিক্কা টিলা ইত্যাদি স্থানে হাউসবোটে পর্যটকদের নিয়ে ঘোরাফেরা করতে হয়। প্রতি বছরই অসাবধানতাবশত: দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। প্রতিটি দুর্ঘটনাতেই দেখা যায় ঘটনার ৩ থেকে ৪ ঘন্টা পরে ঘটনাস্থলে ডুবুরি এসে উপস্থিত হয়। তিনি প্রশাসনের নিকট তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ডুবুরি রাখার জোর দাবি জানান। তিনি আরও জানান, হাওরে ঘোরাঘুরির সময় আমরা পর্যটকদের লাইফ সাপোর্ট হিসাবে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে থাকি।
তাহিরপুর উপজেলা নৌ—পর্যটন শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটক নিয়ে চলাচলে প্রায়ই পনিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। উদ্ধারকাজে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অফিসে ডুবুরি পদায়ন না থাকায় জেলা সদর সুনামগঞ্জ থেকে ডুবুরি এনে উদ্ধার অভিযান করাতে হয়। এতে করে অনেক সময় বিলম্ব হয়। টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটন বিবেচনা করে তিনি জরুরি ভিত্তিতে তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ডুবুরি পদায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, তাহিরপুর উপজেলা একটি পর্যটন এলাকা। সারাবছরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক এই উপজেলায় আসেন। পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী ও নীলাদ্রি লেকে নেমে গোসল করেন। অসাবধানবশত: অনেক সময় পর্যটকরা এমনকি হাওরপাড়ের অনেক শিশুরা পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস থাকলেও ডুবুরি সেকসন না থাকায় সুনামগঞ্জ থেকে ডুবুরি দল আনতে গিয়ে বিলম্ব হয়, ততক্ষণে ডুবন্ত ব্যক্তির মরদেহ পানিতে ভেসে উঠে। তিনি তাহিরপুর উপজেলাকে পর্যটন উপজেলায় বিবেচনায় এনে ফায়ার সার্ভিস অফিসে ডুবুরি সেকসন চালু করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
চলতি বছর ২৪ এপ্রিল উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের দশঘর গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান (১৪) যাদুকাটা নদীতে পানিতে ডুবে মারা যায়। ২৯ মে উপজেলার পাটলাই নদীতে বালিয়াঘাট গ্রামের তৌহিদ নূরের ছেলে ওবায়দুল (৬) পানিতে ডুবে মারা যায়। ৩১ মে পাঠলাই নদীতে ধর্মপাশা উপজেলা থেকে ৬০ জনের পর্যটকের দল টাঙ্গুয়ায় আসে, এসময় নৌকা থেকে পড়ে সুখাইর রাজাপুর ইউনিয়নের ঘলুয়া গ্রামের মুজিবুরের ছেলে তামিম (১৫) পানিতে ডুবে মারা যায়। ৯ জুন তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ধুতমা গ্রামের আবুল বাশারের স্ত্রী সুলতানা বেগম (২৪) মারা যায়। সবগুলো ঘটনাতেই উদ্ধারকাজে সুনামগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি আসতে হয়েছে।
তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব অফিসার ফরিদ মিয়া বলেন, তাহিরপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ২৭টি পদের মধ্যে ২২টি পদে জনবল রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি পদ রাজস্ব খাতে আর ৩টি পদ আউটসোর্সিং থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। ফায়ার ফাইটার ১৬টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছে ১২ জন, ড্রাইভার ৪ জনের মধ্যে ৪ জনেই আছেন। লিডার দুইজনের মধ্যে দুজনই আছেন। স্টাফ অফিসার পদটি খালি রয়েছে। সাব অফিসার রয়েছেন ১ জন। অপরদিকে আউটসোর্সিং এ ১ জন করে বাবুর্চি, সহকারী বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছেন। তিনি জানান, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ডুবুরি পদ না থাকায় আমরা তাৎক্ষণিক জেলায় সংবাদ দিয়ে থাকি।
সুনামগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ সুবল চন্দ্র দেবনাথ উপজেলা পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের কোন ভেকেন্সি নেই। এমন অবস্থায় কোন উপজেলাতে পানিতে ডুবে যাওয়ার সংবাদ পেলে আমরা জেলায় তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে থাকি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন