প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬ ২২:৫১
তাহিরপুরের সীমান্তনদী যাদুকাটার শাখা মাহারাম নদীর উৎসমুখ থেকে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন। ইজারাবিহীন এই নদীতে দিন—দুপুরে চলছে বালু লুট। যেন দেখার কেউ নেই। প্রাকৃতিক ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া নদীর মুখ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে মাহারাম নির্মাণাধীন উড়াল সেতু, ঐতিহ্যবাহী শিমুল বাগান, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং ভাটি অঞ্চলের মাটিয়ান, চুনখলাসহ ছোট—বড় হাওরের বোরো ফসল।
জানা যায়, ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা যাদুকাটা নদীর শাখা মাহারাম নদী। সম্প্রতি নদীর মুখসহ শান্তিপুর এলাকায় চিহ্নিত বালুখেকো চক্ররা দিন—রাতে কোটি টাকার বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এই বালু লুট নিয়ে কেউ ভয়ে মুখ খুলছেন না। তবে পুলিশ বলছে তারা টহল দিচ্ছেন এবং বালুবাহী নৌকা আটক করে নিয়মিত মামলাও দিচ্ছেন।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাহারাম নদীর উৎস মুখ থেকে ২০ থেকে ৩০টি নৌকা প্রাকৃতিকভাবে গড়া উঠা বাঁধটি কেটে বালু নিয়ে যাচ্ছে। কার নির্দেশে এখন থেকে বালু নিচ্ছেন জানতে চাইলে তার কোনো জবাব না দিয়ে দ্রুত নৌকা নিয়ে এখান থেকে সরে যায়।
.jpg)
মাহিবুর রহমান নামে একজন বলেন, মাহারাম নদী মুখ এবং শান্তিপুর ও কয়লার ঘাট নামক স্থান থেকে বালু লুট করে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পাটলাই নদীতে বড় বড় বাল্কহেড ও স্টিলবডি নৌকায় ভরাট করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। এছাড়া উপজেলার মাটিকাটা, বুরকাড়া, টেকাটুকিয়া, ধুতমাসহ বিভিন্ন স্থানেও বালু মজুত করা হয়, পরে সুযোগ বুঝে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, ১৯৮৮ সালের পূর্বে মাহারাম নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করলে মাটিয়ান, সমসাসহ ছোট—বড় ২৩টি হাওর পানিতে তলিয়ে যেত। তখন অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করত। কিন্তু ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় পাহাড় থেকে নেমে আসা বালু ও নুড়িপাথরে মাহারাম নদীর মুখ প্রাকৃতিক ভাবেই ভরাট হয়ে যায়। এ কারণে গত ৩৮ বছর ধরে সেখানে আর সরকারি খরচে বেড়িবাঁধ দিতে হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সেই প্রাকৃতিক বাঁধটি এখন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান বলেন, মাহারাম নদীর মুখসহ শান্তিপুর এলাকায় প্রতি রাতেই শতাধিক নৌকা দিয়ে বালু লুট করা হচ্ছে। গ্রামবাসী বাধা দিলেও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, নদীর মুখের প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভাটি অঞ্চলের মানুষ। তখন মাটিয়ানসহ ছোট—বড় হাওরের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ছাত্রদল নেতা কাওসার বলেন, এ নদীতে এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে মাটিয়ান হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল অকাল বন্যায় তলিয়ে যাবে। এখনই নদী রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, মাহারাম নদীর মুখের বালু রক্ষায় পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এছাড়া শান্তিপুর এলাকায় নৌ পুলিশও নিয়মিত অবস্থান করছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, উপজেলা প্রশাসন প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে এবং জেল—জরিমানা করা হচ্ছে। এ নদীর বালু রক্ষায় স্থানীয় সচেতন মহলেরও এগিয়ে আসা উচিত। তিনি আরও বলেন, মাহারাম নদীর মুখের বালু রক্ষায় দ্রুত বাঁশের বেড়া দেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন