প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬ ২২:৫৬
তাহিরপুরে অসহনীয় লোডশেডিং
তাহিরপুর উপজেলায় অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার সর্বত্র ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষাও ব্যবসা—বাণিজ্যে ধস নেমেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত কোনো লোডশেডিং শিডিউল মানা হচ্ছে না। দিন—রাতের যে কোনো সময় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু—বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও তা চালু করা হয় না, ফলে রোগীরা বিছানায় গরমের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী মুতাকাব্বির মিয়া বলেন, ফ্রিজ বন্ধ আইসক্রিম ও ঠান্ডা জাতীয় খাবার নষ্ট হচ্ছে। ক্রেতাও আসে না ব্যবসা একেবারে লাটে উঠেছে।
এদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিয়মিত শিডিউল অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহির উদ্দিন তার ফেসবুকে লিখেন, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এমন এক উপজেলা যেখানে দৈনিক ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৫ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকে না।
টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের গ্রাম ছিলানি তাহিরপুর। ওই গ্রামের আব্দুল হালিম নামে জনৈক ব্যক্তি লিখেন, বিদ্যুৎ অফিসের ভাইয়েরা আপনারা কিন্তু বিদ্যুৎ নিয়ে গাদ্দারী শুরু করেছেন। বিদ্যুৎ বিল কিন্তু আপনারা সঠিকভাবে নিয়েছেন এবং আমরা সঠিকভাবে দিয়ে আসিতেছি। কিন্তু বিদ্যুৎ নিয়মিতভাবে দিতেছেন না। আপনারা যখন বিদ্যুৎ অফিসে চাকরি করেন নিয়মিত বিদ্যুৎ চালিয়ে যান। অযথা সাধারন পাবলিককে ভোগান্তিতে ফেলবেন না। যেহেতু বিশ^কাপ খেলা শুরু হয়েছে। সেইদিক বিবেচনা করে হলেও বিদ্যুৎ চালু রাখেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামের ভর্তিরত রোগী আলাল উদ্দিন (৬০) বলেন, তিনি সপ্তাহখানেক ধরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি জানান, গরমের যন্ত্রণায় জান বের হয়ে যাচ্ছে। সারারাত বিদ্যুৎ থাকে না। হঠাৎ আসলেও ৩০ মিনিট পরেই চলে যায়।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার শরিফ আহমদ বলেন, অতিষ্ঠ জীবন। এত পিছিয়ে থাকে একটা উপজেলা, কারো কোন মাথা ব্যাথা নাই। দিনের ২৪ ঘন্টায় ৪ ঘন্টাও কারেন্ট থাকে না। একটা উপজেলার প্রধান পয়েন্টে এমন যদি হয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তখন আফসোসের সুরে বলতে হয় বিদায়।
তাহিরপুর উপজেলার বিশিষ্ট ক্রিড়াবিদ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন, তাহিরপুরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং চলছে দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বিশ^কাপের ফুটবল খেলা দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক তাহিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক অমর সরকার জানান, বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো ব্যাংক সময় তাদের জেনারেটর দিয়েই সারতে হয়। তিনি আরো জানান, বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ লোডশেডিং তিনি তার চাকুরি জীবনের ৩৫ বছরেও দেখেননি বলে জানান।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. নাশাদ আহমেদ বলেন, তাহিরপুরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাস্থ্য সেবার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে। মেরমতের জন্য এইচইডিতে চিটি দেয়া হয়েছে, তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পল্লী বিদ্যুৎ সাব জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আলাউল হক সরকার জানান, তাহিরপুর উপজেলায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন, তারা পান ৩ মেগাওয়াট। এমতাবস্থায় প্রতি এক ঘন্টা বিদ্যুৎ দিলে দুই ঘন্টা লোডশেডিং দিতে হয়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন