প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬ ২২:০৬
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কৃষ্ণতলা ও শ্রী শ্রী শিব বাড়ি মন্দির নানা সমস্যায় জর্জরিত। অর্ধশতাধিক বছরের পুরোনো এই উপাসনালয়ে এখনো গড়ে উঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। সেজন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পূজা—অর্চনায় অংশ নিতে এসে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে ভক্তদের।
মন্দিরটি সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জয়কলস এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এখানে পূজা—অর্চনা হয়ে এলেও মন্দিরে নেই নাটমন্দির, শৌচাগার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা কিংবা নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা। মন্দির প্রাঙ্গণ কাঁচা থাকায় বর্ষাকালে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো এলাকা। এতে ভক্তদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
গত বুধবার মন্দিরে শিবের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী নারী—পুরুষ, শিক্ষক—শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশ নেন। তবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে বিশেষ করে নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভক্তরা কাদার কারণে দুর্ভোগে পড়েন। মন্দিরে স্থায়ী নাটমন্দির না থাকায় অস্থায়ী প্যান্ডেল তৈরি করে আরতি ও প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়ক থেকে মন্দিরে নামার পথটি ঝুঁকিপূর্ণ। মন্দিরের উন্মুক্ত স্থানগুলো কাদায় ভরা থাকায় দর্শনার্থীদের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। শিশুদের খেলাধুলারও কোনো উপযুক্ত জায়গা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মন্দিরটিকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। তাঁদের মতে, মন্দিরের পর্যাপ্ত জমি থাকলেও অর্থের অভাবে তা ভরাট করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ভবিষ্যতে জমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিধু গোস্বামী, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত তালুকদার (পুল্টন) ও অর্থ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘মন্দিরের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন কাজ করা যাচ্ছে না। ভক্তদের জন্য শৌচাগার, নাটমন্দির, সীমানাপ্রাচীর ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মন্দিরের সমস্যাগুলো উল্লেখ করে পরিচালনা কমিটি আবেদন করলে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন