প্রতারণার নয়া ফাঁদ

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬ ২৩:৩০

শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হকের বড় ছেলে ইমাদ হক। পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র সে। স্কুল চলাকালীন সময় নূরুল হকের কাছে কল আসে ইমাদকে গ্রেফতার করেছে শান্তিগঞ্জ থানার কামরুল নামের একজন এসআই। তিনি দাবি করছেন, ইমাদের কাছে মাদক পাওয়া গেছে। তাকে ছাড়াতে হলে দ্রুত কথিত ওই পুলিশের নাম্বারে ২৫ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। তারা যখন কথা বলছিলেন তখন কথার পেছনে পুলিশের গাড়ির সাইরেন, বাঁশির হুইসেল বাজছিলো অনবরত। মনে হচ্ছিলো কোনো কমান্ডো অপারেশন চলছে। 

 


তারা জানায়, ইমাদের সাথে নেশায় আক্রান্ত আরো দু’জনকে আটক করা হয়েছে যারা পেশায় সিএনজি চালক। ঘটনার বিবরণ শুনে বাবা নূরুল হক প্রথমে বাসায় ও পরে স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ছেলে ইমাদ হক স্কুলেই ক্লাস করছে। পরে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারক চক্রের কল ছিলো এটি। ইমাদ গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি কিছুক্ষণের জন্য তার পরিবারের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিলো। বাবা নূরুল হককে গভীর চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলো। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৬ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে। 

 


একই ঘটনা ঘটেছে একই ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও মনবেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সাইদুল হকের সাথে। তাঁর বড় ছেলে মাহবুবুল হক হাসান চাকুরি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে আছেন। শিক্ষক বাবাকে কল দিয়ে এসআই কামরুল পরিচয় দিয়ে হাসানকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে টাকা দাবি করা হয়। এখানেও মুঠোফোনের পেছনে পুলিশের গাড়ির সাইরেন ও বাঁশি বাজছিলো। সাজানো হয় গ্রেফতার নাটক। তিনিও যাচাই বাছাই করে নিজের ছেলের সাথে কথা বলে বিষয়েটিকে প্রতারণা বলে চিহ্নিত করে কথিত পুলিশের ফোন কেটে দেন। তাঁর সাথে এই ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ জুন, মঙ্গলবার।

 


এমন ঘটনা মারাত্মক উদ্বেগের বলে দাবি করেছেন শিক্ষক সাইদুল হক। তিনি বলেন, আমার ছেলে সিলেটের বাইরে আছে একটি প্রশিক্ষণে। যখন এমন একটি কল আসে আমি স্বভাবতই তার সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করি। প্রথমে সে আমার কল রিসিভ করেনি। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তার মা খুব চিন্তায় পরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। কোনো দুর্বল হার্টের মানুষ হলে হার্ট এ্যাটাক করতে পারতেন। আমি মনকে বুঝাচ্ছিলাম, আমার ছেলে তো এমন ছেলে নয় যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবে। পরে আমার ছেলের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তা মুক্ত হই।

 


সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন, আমি প্রথমে ঘাবরে গিয়েছিলাম। আমার ছেলে যদিও এমন ছেলে নয়। প্রথমে তার মাকে জিজ্ঞেস করি এবং পরে স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে স্কুলে আছে। আমরা যারা একটু সচেতন তারা না হয় এই প্রতারণা থেকে রেহাই পেয়েই গেলাম, কিন্তু যারা সহজ সরল, তাদের অবস্থা কী হবে। ফোনে এমন আবহ তৈরি করা হয়, শুনে মনে হয় সব সত্য। আমার ছেলে সাজিয়ে একজনকে আমার সাথে কথাও বলিয়েছে। এসব প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

 
শান্তিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার রাকিব বলেন, এ ধরণের ঘটনা পুলিশ কখনোই করে না। মাদক নিয়ে পুলিশ যদি গ্রেফতার করে তাহলে ছেড়ে দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। এটি একটি চক্র। এসব চক্র থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতে টাকা লেনদেন করা যাবে না। কল আসা মাত্রই এই বিষয়ে আগে যোগাযোগ করে সত্যতা নিশ্চিত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করতে হবে। এটি সম্ভব না হলে ৯৯৯ এ কল দিতে হবে।

 


থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলি উল্লাহ বলেন, এমন ঘটনায় কেউ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেন নি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব ঘটনা ঘটলে থানায় যোগাযোগ করতে হবে। অভিভাবকগণ সচেতন থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যপক প্রচারণা চালাতে হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার