প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ২৩:২৪
মাত্র ৩০০ মিটার সড়কের বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার শান্তিগঞ্জ ও জামালগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৭টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের শেষ গ্রাম আক্তাপাড়া। এই গ্রামটি জামালগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাজ, আলীপুর ও ভীমখালীর সাথে সংযুক্ত হয়েছে।
আক্তাপাড়া গ্রামের প্রায় সব মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত জামালগঞ্জের ভীমখালী বাজারে। যে পথ দিয়ে এই এলাকার মানুষ চলাচল করেন, সেটি মুরাদপুর ভায়া আক্তাপাড়া সড়ক নামে পরিচিত। শুধু আক্তাপাড়া নয়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার থলেরবন্দ, লালুখালী, বাহাদুরপুর, মুরাদপুর, শিমুলবাঁক, কাঁঠালিয়া ও হাসনাবাজসহ ৭টি গ্রামের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। কিন্তু বর্তমানে এই সড়কটিই এখন স্থানীয়দের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশির ভাগ রাস্তা ইটসলিং থাকলেও শুরুর দিকে প্রায় ৩শ’ মিটার জায়গার জন্য সম্পূর্ণ রাস্তায় এখন সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কাদা, গর্তে একেবারে চলাচল অনুপযোগী হয়ে উঠেছে রাস্তাটির ভাঙা এই অংশ।
.jpg)
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির বেশির ভাগ অংশ ইট বিছানো (ইটসলিং) হলেও শুরুর দিকের মাত্র ৩০০ মিটার জায়গা কাদা আর বড় বড় গর্তে একেবারে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুকনো মৌসুমে এই পথে সিএনজি বা মোটরসাইকেল চললেও, বর্তমানে পুরো সড়কেই সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ। কাদার কারণে পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর। ভীমখালী বাজার থেকে মল্লিকপুর বা কলকতা পর্যন্ত সরু সড়কটির অবস্থাও নাজুক। হাসনাবাজ, আলীপুর ও ভীমখালী দারুস সুন্নাহ্ মহিলা মাদ্রাসার সামনে থেকে আক্তাপাড়া গ্রামে প্রবেশের মুখেই দেখা মেলে এই কর্দমাক্ত ও ভাঙাচোরা রাস্তার। প্রথম দেখায় এটিকে কোনো গ্রামীণ সড়ক নয়, বরং হাওরে প্রবেশের পরিত্যক্ত গোপাট বলে ভ্রম হওয়া স্বাভাবিক। অথচ এই ৩০০ মিটার কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিলেই মুরাদপুর পর্যন্ত বাকি রাস্তাটি বেশ ভালো।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সামান্য একটু জায়গার সংস্কার না হওয়ায় পুরো সড়কটিই অকেজো। প্রতিদিন এই অঞ্চলের অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। গর্ভবতী মহিলাদের সমস্যায় পড়তে হয় বেশি। হঠাৎ করে কারো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে পাওয়া যাবে না গাড়ি, মৃত্যু তখন চলে আসবে আরো কাছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অংশে কোনো কাজ হয় না। এছাড়া শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ সরকারি কলেজ, জেলা শহরের কলেজগুলো, বিভিন্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য চলাচলে চরম বেগ পোহাতে হয়।
স্থানীয়রা দাবি করেন, কয়েক বছর আগে স্থানীয় পিয়াইন নদীর উপর প্রায় ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। সেই সেতুটি নির্মাণ হলে বিকল্প আরেকটি পথ তৈরি হতো। কিন্তু সেই কাজেরও কোনো অগ্রগতি দেখছি না। তারা জানান, প্রতি বছরই রাস্তার মুখের কাজ করতে হয়। গ্রামবাসী চাঁদা তুলে কাজ করতে হয়। সাঁকো তৈরি করতে হয় ৬০/৭০ হাজার টাকা খরচ করে।
আক্তাপাড়া গ্রামের কৃষক অজুদ মিয়া ও আজি রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ, তাই আমাদের প্রতি কারও ভ্রম্নক্ষেপ নেই। না হলে সামান্য একটু রাস্তার জন্য এত বছর অপেক্ষা করতে হয় কেন? এই সামান্য জায়গার কাদা—গর্ত আমাদের জীবন বিষিয়ে তুলেছে। আমাদের দাবি, দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা হোক।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাজেদুল আলম বলেন, সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র কাম শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই স্কুলের টেন্ডারের সাথেই ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঠিকাদার কাজ শুরু করলেই রাস্তার কাজটিও হয়ে যাবে। তবে আপাতত মানুষের চলাচল উপযোগী করতে ওই ভাঙা অংশে কিছু ইট বিছানোর ব্যবস্থা করব।
সেতু নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন