প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ২৩:০৭
দীর্ঘ ৫ বছর ধরে রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ করম আলী। বাঁশের খুঁটির ওপর মাচাং তৈরি করে পলিথিনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে বানানো হয়েছে এই ঝুপড়ি। এতেই কোনো রকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে করম আলীর পরিবার। এখানে নেই কোনো বিশুদ্ধ পানি কিংবা স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
জানা যায়, আগে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে মালামাল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন করম আলী। কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ বিভিন্ন রোগব্যাধি আর বয়সের ভারে আর ব্যবসা করতে পারছেন না তিনি। এখন স্ত্রী রাবেয়া খাতুন বিভিন্ন গ্রামে চুড়ি বিক্রি করে যা পান, তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছে পরিবারটি। অর্থাভাবে করম আলীর চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময় সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়েযাওয়ায় স্ত্রীকে নিয়ে এখন তার জীবন কাটছে নিদারুণ অভাব—অনটনে। রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা এই পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার যেন কেউ নেই।
বৃহস্পতিবার কথা হয় করম আলীর সাথে। তিনি জানান, দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ এই ঝুপড়ি ঘরে তারা বসবাস করছেন। ২ ছেলে ও ১ মেয়ে থাকলেও ছেলেরা আলাদা হয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন একজন দিনমজুরের কাছে। সন্তানদের সংসারও চলে অভাব—অনটনে। তারা বাবা—মায়ের খোঁজখবর নিলেও কোনো আর্থিক সহায়তা করতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে সরকারি সড়কের পাশে ঝুপড়ি ঘরেই জীবন কাটাতে হচ্ছে।
স্ত্রী রাবেয়া খাতুন বলেন, তিনি (স্বামী) কোনো কাজ করতে পারেন না। সেজন্য আমাকেই গ্রামে গ্রামে গিয়ে চুড়ি বিক্রি করতে হয়। যা পাই, তা দিয়েই সংসার চালাই। অসুখ—বিসুখে যেদিন কাজে যেতে না পারি, সেদিন ধার—দেনা করে চলতে হয়। শুনেছি সরকারিভাবে গৃহহীনদের ঘর দেওয়া হয়, কিন্তু আমরা কার কাছে গেলে সেই সহযোগিতা পাবো?
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরে থাকছে। ঝড়—বৃষ্টি হলে ঝুপড়ি ঘরের সব মালামাল ভিজে যায়, আবার দিনে সেগুলো রোদে শুকাতে হয়। সরকার কিংবা কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি তাদের একটি ঘর তৈরি করে দিতেন, তাহলে তারা একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারতেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, এই পরিবারটি আমার পাশের গ্রামের রাস্তার পাশে থাকে। সরকারিভাবে তাকে ১২ শতক জায়গা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জায়গাটি নিচু হওয়ায় বর্ষায় পানি উঠে যায়। এছাড়া ঘর তৈরি করার সামর্থ্য না থাকায় তারা ঝুপড়ি ঘরেই বসবাস করছেন। অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া এবং অন্যান্য সুযোগ—সুবিধা প্রদানের জন্য আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন