প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬ ১৯:৩৪
তাহিরপুরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের শিকার হওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বসতঘর ও ভূষিমালের দোকান এক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। ঘটনার চারদিন পর শুক্রবার তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুনর্নির্মাণের এ প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে বাদাঘাট বাজারে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, আলেম-ওলামা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও মন্দির আঙিনায় পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় এমপি কামরুল বলেন, ঘটনার সময় তিনি জাতীয় সংসদে ছিলেন। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দলীয় নেতাকর্মী ও আলেম সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সংসদের কার্যক্রম শেষে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন।
তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দীপ্ত রায়কে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। অভিযুক্ত যে কাজটি করেছে তা নিন্দনীয় এবং এতে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। তবে বিচার আইনের মাধ্যমেই হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ যদি তাৎক্ষণিক ভাবে তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারত, তাহলে আপনারা বিচারের দাবি জানাতেন। আমিও সেই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতাম। কিন্তু যেহেতু তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাই এর পর আর কারও মন্দির, বাড়িঘর বা দোকান ভাঙচুরের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি দুষ্কৃতকারী চক্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল। তবে স্থানীয় জনগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। সভায় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির, বসতঘর ও দোকান মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জর পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক, তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম, ধর্মীয় নেতা মাওলানা মাইনউদ্দিন, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, বিএনপি নেতা আজিজুল রহমান সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপ্ত রায়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তিনি উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামের নিখিল রায়ের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য সংবলিত একটি পোস্ট করেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে তার গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বাদাঘাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় একদল উত্তেজিত ব্যক্তি গড়কাটি গ্রামে দীপ্ত রায়ের বাড়ি, দোকান এবং স্থানীয় একটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন