প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫৭
টানা দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ খেটে খাওয়া সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকেই আয়—উপার্জনহীন হয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বর্ষণ ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সুনামগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সেজন্য পরিবহন, খুচরা ব্যবসাসহ স্থানীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
রাধানগর এলাকার হানিফ মিয়া ভাড়ায় চালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। গত মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টির কারণে তার আয় প্রায় বন্ধ। বুধবার বিকেলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে আব্দুজ জহুর সেতু সড়কের আন্ডারপাসে রিকশা থামিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে।
.jpg)
হানিফ মিয়া চিন্তিত কণ্ঠে বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। আজকেও (বুধবার) সকালে বৃষ্টির লাগি বাইর হইনি। এখন দেখলাম কিছু রোজী না করতে পারলে আমরার উপোস থাকা লাগব, এরলাগি বাইর অইছি। কিন্তু এখনও বৃষ্টি। বইসা বইসা অপেক্ষা করছি, যদি বৃষ্টি কমে তাহলে বের অইমু। তিনি আরও জানান, পরিবারে ৬ জন সদস্য। প্রতিদিন অটোরিকশার ভাড়াই দিতে হয় সাড়ে ৩০০ টাকা। সেই ভাড়ার টাকা তোলা আর সংসারের খরচ চালানো নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
একই অবস্থা মাইজবাড়ী এলাকার জহিনুর মিয়ার। ওয়েজখালী থেকে খালি অটোরিকশা নিয়ে শহরের দিকে ফেরার পথে তিনি বলেন, আজকে সারা দিনে মাত্র ১১০০ টাকা রোজি করেছি। মেঘ—বৃষ্টির লাগি মানুষ বাইর হয় না। দিনে গাড়িভাড়া আছে ৬০০ টাকা। আমার নিজেরও খরচ আছে। সব বাদে ৩০০ টাকা থাকে, যা দিয়ে এই বাজারে ঘরের খরচ চলে না। জিনিসপত্রের দাম বেশি, রোজি কম, চলা মুশকিল।
বৃষ্টির কবলে পড়ে চরম লোকসানে আছেন ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। ফুটপাতে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সোহাগ মিয়াকে দেখা গেল শরীর পলিথিন দিয়ে ঢেকে কোনোমতে বৃষ্টি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। ক্রেতা না থাকায় পাত্রে রাখা মুড়িসহ সব মালামাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন তিনি।
হতাশা প্রকাশ করে সোহাগ মিয়া বলেন, অন্যদিন ১০০০ টাকারও বেশি বিক্রি করি। আজ এই পর্যন্ত মাত্র ১৫০ টাকা বিক্রি হইছে। বৃষ্টি কমছে না, মানুষও নাই। এই দুই দিনের বৃষ্টিতে আমরার সর্বনাশ হয়ে গেছে, চলার কোনো উপায় নাই।
পানি উন্নয়ন বোর্ড—২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার ভারতের মেঘালয়ে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নদীতে ৩০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, এতে নিম্নাঞ্চলে এলাকায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন