প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫৩
অনিয়মের শঙ্কা কৃষকের
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ করতে আবেদনকারী কৃষকদের মধ্য থেকে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। যাঁরা সরকারি দামে খাদ্য গোদামে ধান বিক্রি করতে পারবেন। মোট ৪ হাজার ২০৮ জন কৃষকদের মধ্য থেকে ১৬৯ জন কৃষকের নাম লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে কৃষকদের সামনে উন্মুক্ত এই লটারি অনুষ্ঠিত হয়।
লটারি কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রব, কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীব, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি জালাল উদ্দিন ও গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক কৃষক, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই ধাপে আটটি ইউনিয়ন থেকে মোট ১৬৯ জন কৃষকের নাম লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১৪৪০ টাকা মন দরে ৫০৭ মেট্রিকটন ধান ক্রয় করবে সরকার। প্রথম ধাপে উপজেলার ৭৩১ জন কৃষকের কাছ থেকে সর্বমোট ২ হাজার ১৯৫ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করার লক্ষ মাত্রা ঠিক করা হয়েছিলো। তখন ৫৬২ জন কৃষক ১৬শ’ ৮৮ মেট্রিকটন ধান দিয়েছেলো। ১৬৯ জন কৃষক ধান না দেওয়ায় ৫০৭ মেট্রিকটন ধানের ঘাটতি থেকে যায়। লক্ষমাত্রা বা ঘাটতি পূরণ করতে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬৯ জন কৃষকের কাছ থেকে আরো ৫০৭ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় লটারি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে।
সূত্র আরো জানায়, শিমুলবাক ইউনিয়নের আবেদনকারী ৫৬৫ জন কৃষকের মধ্য থেকে ২০ জন, জয়কলস ইউনিয়নের ১২৫২ আবেদনকারীর মধ্য থেকে ২৫ জন, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ৪৫২ জন আবেদনকারী থেকে ১০ জন, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ২৫৫ জন কৃষকের মধ্য থেকে ২১ জন, দরগাপাশা ইউনিয়নের ৩৪২ জন আবেদনকারীর মধ্য ২১ জন, পূর্ব বীরগাঁও ইউয়নের ৪৬০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে ২০ জন, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ৩৯৩ জনের মধ্যে ২৫ জন ও পাথারিয়ার ইউনিয়নের ৪৯০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে ২৭ জন কৃষক লটারিতে বিজয়ী হয়েছেন।
তবে এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের শঙ্কা দেখছেন কৃষক জাবেদ হোসেন। বললেন, দেখার হাওরে ১৮ কিয়ার জমি চাষ করেছি। একমন ধানও সরকারি দামে বিক্রি করতে পারি নি। আমরা বিভিন্নভাবে উপজেলা প্রশাসনের এই প্রক্রিয়াকে সন্দেহ করছি। এতো এতো নামের মধ্যে যে নামগুলো তারা তুলেছেন তার নম্বরও কৃষকরা জানেন না। যে নম্বর উঠেছে কৃষকরা জানবেনই না যে এটি তার নামের নম্বর। গোপনে এই কৃষকদের ধান নিয়ে অনিয়ম হতে পারে।
তবে এই শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আবদুর রব। তিনি বলেন, এখানে আমরা শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি কোনো অনিয়ম হবে না। উপজেলার ৪২০৮ আবেদনকারীর মধ্যে ১৬৯ টি ক্রমিক উঠেছে। এই ক্রমিকে যাদের নাম আছে তাঁরাই ধান দিতে পারবে। আগামীকাল তালিকা টানানো হবে। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপরও যদি কোনো কৃষক না আসেন তাহলে আমরা কল করে জানিয়ে দেবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন