প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৫৭
উৎসাহ—উদ্দীপনা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জগন্নাথ জিউর মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে রথযাত্রার সূচনা হয়। কীর্তন, ঢাক—ঢোল, করতালসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বিপুল সংখ্যক ভক্ত রথের দড়ি টেনে নেন। রথযাত্রাকে ঘিরে ১০ দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মন্দির পরিচালনা কমিটি। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথ।
বিকাল ৪টায় সুনামগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গণে রথযাত্রার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও অতিরিক্ত পি.পি অ্যাড. শেরেনুর আলী, অ্যাড. বিমান কান্তি রায়, শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিঁউর মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ—সভাপতি ধুর্যটি কুমার বসু এবং সাধারণ সম্পাদক বিজয় তালুকদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. গৌরাঙ্গ পদ দাশ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রথযাত্রার আগে ভক্তরা জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে কলা, আম, কাঁঠাল, আপেল, পেয়ারাসহ নানা ধরনের ফল অর্পণ করেন। অনেকেই নিজেদের গাছের ফল ভক্তিভরে জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন।
পরে রথটি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে মধ্যবাজার, আলফাত স্কয়ার, উকিলপাড়া, হোসেন বখ্ত চত্বর, দুর্গাবাড়ি মন্দির, শান্তিবাগ, নতুনপাড়া, কালীবাড়ি সড়কসহ পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জগন্নাথ জিউর মন্দিরে ফিরে আসে। পুরো পথজুড়ে কীর্তন, শঙ্খধ্বনি ও জগন্নাথদেবের নামসংকীর্তনে মুখরিত হয়ে উঠে শহর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উৎসবমুখর জগন্নাথদেবের রথযাত্রা আবারও প্রমাণ করেছে— বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ। সুনামগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই সম্প্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন।
বক্তারা আরও বলেন, রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা ও সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, হিন্দু—বৌদ্ধ—খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, সনাতন বিদ্যার্থী সংঘসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দিনে ইসকনের কালাচাঁদ ও গোপাল জিউর আখড়া থেকেও পৃথকভাবে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশ নেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন