প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬ ২১:৫৩
এক সময় অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার পর বছরের দীর্ঘ সময়জুড়ে পতিত পড়ে থাকত শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরামর্শ এবং এলএসটিডি (খঝঞউ) প্রকল্পের অর্থায়নে পরীক্ষামূলকভাবে আউশ ধানের চাষ শুরু করেছেন গ্রামের কয়েকজন কৃষক। ইতোমধ্যে মাঠজুড়ে সবুজ ধানের সমারোহ দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা।
ধনপুর গ্রামের কৃষক আজাদ মিয়া জানান, অগ্রহায়ণে আমন ধান কাটার পর এতদিন জমিতে আর কোনো ফসল হতো না। এবার এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে আউশ ধান চাষের পরামর্শ ও সার্বিক তদারকি পেয়েছেন তারা। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা খুবই ভালো। তিনি বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত ফলন ভালো হয়, তাহলে আগামী বছর থেকে নিয়মিত এই সময়ে আউশ ধানের চাষ করব। এতে বছরের অলস সময়টাও কাজে লাগবে।
আরেক কৃষক বলেন, আগে এই সময়ে জমিগুলো সম্পূর্ণ পতিত থাকত। এবার প্রথমবারের মতো আউশ ধানের আবাদ করে ভালো ফলনের আশা করছেন। মাঠে ধানের অবস্থা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, আগে বছরের এই সময়টাতে তাদের কোনো কাজ থাকত না। চারদিকে পানি থাকায় অন্য কোনো ফসলও করা সম্ভব হতো না। এবার কয়েকজন কৃষক মিলে ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, যদি বছরে আমন ও আউশ—দুই মৌসুমেই ধান উৎপাদন করতে পারি, তাহলে আমাদের আয় বাড়বে এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।
আরেক কৃষক জানান, ব্রির পরামর্শে এবার প্রথমবারের মতো আউশ ধান চাষ করছেন তারা। প্রতি কেয়ারে প্রায় ১৫ মণ ধান উৎপাদনের আশা করছেন।
ব্রি সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, ধনপুর এলাকার জমি তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় সেখানে আমন ধানের পর দীর্ঘ সময় জমি পতিত থাকত। এ কারণে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এবার ৩০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের তিনটি উন্নত জাতের চাষ করা হয়েছে। চলতি বছর বোরো মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে সুনামগঞ্জের কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তাই বছরে একটি অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন করতে পারলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া আমন মৌসুমের পর স্বল্পমেয়াদি আউশ ধান চাষের ফলে পরবর্তীতে সরিষাসহ অন্যান্য ফসল চাষের সুযোগও তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন