প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬ ২২:০৪
ধর্মপাশা উপজেলায় টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় একটি অস্তিত্বহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, একই নামে দুটি ভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্প দেখিয়ে দুই দফায় বরাদ্দ দেওয়া হলেও একটি প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব নেই। সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী, টিআর প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ জুনের মধ্যে শেষ না হলে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ না করে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে তা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই ঘটনা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
২০২৫—২৬ অর্থবছরের টিআর ২য় পর্যায়ের আওতায় পাইকুরাটি ইউনিয়নে ‘কলকাকলী বিদ্যাপীঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন’— নামক প্রকল্পের অনুকূলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বশির আহম্মদের নামে ছাড় দেওয়া হয়। গেল ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু গেল বুধবার দুপুরে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। মাটি ভরাটের কোনো কাজই হয় নি।
এদিকে একই অর্থবছরে টিআর ৩য় পর্যায়ের আওতায় সেলবরষ ইউনিয়নের ‘কলকাকলী বিদ্যাপীঠ উন্নয়ন’— নামক আরেকটি প্রকল্পে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পৃথক বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে একই দিনে (গত বুধবার) সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেলবরষ ইউনিয়নে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীরাও এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেছেন। অথচ এই (অস্তিত্বহীন) প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থও বশির আহম্মদকে পিআইসি সভাপতি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পরে বশির আহম্মদ ওই অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবে (একাউন্ট) সংরক্ষণ করেছেন।
সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, আমার ইউনিয়নের কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।
একই কথা জানিয়ে সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, এমন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অবৈধভাবে উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ওই দুটি প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি বশির আহম্মদ বলেন, স্থানীয় সাংসদের দোহাই দিয়ে পিআইও আমাকে দুটি প্রকল্পের বিল জমা দিতে বলেন। নইলে একটির টাকা ফেরত চলে যাবে। আমি বিষয়টি সাংসদকে জানিয়েছি। আমার প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ দিয়ে কাজ করিয়েছি এবং অন্যটি আমার একাউন্টে জমা আছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুঃ জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় সাংসদ অবগত আছেন। একজনই (বশির) প্রকল্পের সভাপতি। ইউনিয়নের নাম ভুল হয়েছে। সময় সাপেক্ষ হওয়ায় এটি সংশোধন করার সুযোগই ছিল না। নইলে বরাদ্দ ফেরত যেতো।’ ফেরত গেলে সমস্যা কি ও কোনো প্রকল্পের টাকা কি ফেরত যায় নি?— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেরত গেলে প্রতিষ্ঠানতো টাকা পেতোনা। যে প্রকল্পের কাজ হয় নি সেগুলো ফেরত গেছে। দুটি বরাদ্দই পাইকুরাটি ইউনিয়নের।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন