প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪৪
একটি সমাজের মেধা, মনন ও সংস্কৃতির প্রকৃত ধারক ও বাহক হলেন তার গুণী মানুষেরা। যাঁরা সুদীর্ঘকাল ধরে নিজেদের সাধনা, ত্যাগ ও সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে শিল্প—সংস্কৃতির ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁদের সম্মান জানাতে পারা আমাদের পরম সৌভাগ্য। যে দেশে গুণীর কদর করা হয় না সেদেশে গুণীর জন্ম হয় না। সুনামগঞ্জে যারা সংস্কৃতি ধারণ ও লালন করেন তাদের সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। গুণীজনরা সুনামগঞ্জ সম্মানীত করে যাচ্ছেন, ভবিষ্যতে সুনামগঞ্জ তাঁরা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবেন। তাঁদের সম্মান জানিয়ে আমরা গৌরবান্বিত বোধ করছি। আজ যাঁরা সম্মাননা পেয়েছেন আগামী দিনে তারা জাতীয়ভাবেও সম্মানীত হবেন বলে আমরা বিশ^াস করি। আজ যাঁরা সম্মাননা পেয়েছেন তাঁরা মরমি সাধকদেরই উত্তরসূরি। তাঁদের চিন্তায়—চিতনায়—মননে—মগজে শুধু শিল্পচর্চা। জাতিসত্ত্বার জন্য শিল্পচর্চা খুবই জরুরী। শিল্পচর্চা, শিল্পবোধ, সংস্কৃতিমনা— বোধগুলো সমাজের জন্য কল্যাণকর। শিল্পচর্চা যারা করেন তারা আবেগী ও পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন।
.jpg)
শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে গুণিজদের হাতে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এর আগে শিল্প—সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচজন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২৫’ তুলে দেন প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
এবার সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণায় উজ্জ্বল মেহেদী, আবৃত্তিতে রুনা শাহীন আরা লেইছ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠক শাহ্ নূরজালাল, কণ্ঠসংগীতে মো. যোবায়ের বখত এবং লোক সংস্কৃতিতে হীরা মোহন তালুকদার সম্মাননা পেয়েছেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ২০১৮ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননাপ্রাপ্ত শেরগুল আহমদ’র হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন— সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, জেলা জাসাসের আহবায়ক সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম—সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাসাসের সদস্যসচিব মুহাম্মদ মুনাজ্জির হোসেন সুজন। স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মাননা প্রদান কমিটির সদস্য সাংবাদিক—আইনজীবী খলিল রহমান।
অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে সনদ, ক্রেস্ট, মেডেল ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
.jpg)
সম্মাননা গ্রহণ করে সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণা সম্মাননা প্রাপ্ত উজ্জ্বল মেহেদী বলেন, আমি মঞ্চের পেছনের মানুষ। অন্তরালে যা করেছি তা অনেকে বলে থাকেন। সুনামগঞ্জ জল—জ্যোৎস্নার শহর সেটা আমরা ২৫ বছর আগে বলেছি। সেজন্য অনেকে অনেক ধরনের কথা বলেছেন। আমি গুণী নয়, গুণীদেরকে আমি সম্মান দিতে জানি। আমাকে যারা সম্মান জানিয়েছেন, তা আমি অর্ডিয়েন্স ও মঞ্চে যারা আছেন তাদের উৎসর্গ করছি।
সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠক শাহ্ নূরজালাল বলেন, কর্মের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে স্থান পাওয়াই বড় পাওয়া। শাহ আব্দুল করিমের সন্তান হিসেবে সেই স্থান যাতে আমি পাই— সেজন্য আপনাদের সকলের দোয়া চাই।
সম্মাননা কতটুকু যোগ্য আমি জানি না উল্লেখ করে আবৃত্তিতে সম্মাননাপ্রাপ্ত রুনা শাহীন আরা লেইছ বলেন, কবিতার সাথে আমার আত্মীক সম্পর্ক। রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমাকে প্রভাবিত করেছে। সুনামগঞ্জের শিশু—কিশোরদের জন্য কিছু কাজ করার পরিকল্পনা আমার আছে। বক্তব্যে এক পর্যায়ে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতা আবৃত্তি করেন।
কণ্ঠসংগীতে সম্মাননা প্রাপ্ত মো. যোবায়ের বখত গেয়ে শোনান ‘লোকে বলে আমার ঘরে নাকি চাঁদ এসেছে’ এবং লোক সংস্কৃতিতে সম্মাননা প্রাপ্ত হীরা মোহন তালুকদার গেয়ে শোনান ‘শিখাইয়া পিরিতি করিলো ডাকাতি ভুলিয়া রইয়াছে আমায় সখী কি গো করি উপায়’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিনহাজুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ সংস্কৃতি চর্চার উর্বর ভূমি। হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই সমৃদ্ধ ইতিহাস ধরে রাখতে হবে। আমাদের নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতার বিকাশে সংস্কৃতি চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা গুণিজনদের সম্মান জানাতে পেরে নিজেরা সম্মানিত বোধ করছি। আমরা আরও গুণিজনদের সম্মান জানাতে চাই। আমরা গুণিজনদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে আরও গুণিজন সৃষ্টি করতে চাই।
আলোচনা পর্বের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন