প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৯
৮২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা
সু.খবর ছবি
সুনামগঞ্জের উঁচু এলাকাগুলোতে আমন ধানের চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয়েছে। হাওরাঞ্চলের এই জেলায় চলতি মৌসুমে ৮২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ এবং ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চল ও কিছু এলাকায় বীজতলা তৈরি, জমি প্রস্তুত এবং চারা রোপণের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড় চার হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। আবাদ ত্বরান্বিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ১৬ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দোয়ারাবাজার, ছাতক ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উঁচুতে রোপণ কার্যক্রম চললেও অনেক স্থানে অতিবৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
দোয়ারাবাজারের আজমপুর এলাকার কৃষক আব্দুল সালাম জানান, তিনি ৩০ কেয়ার জমিতে আমন আবাদ করছেন, যার মধ্যে ১০ কেয়ারে রোপণ শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন ও আব্দুল মান্নান যথাক্রমে ব্রি—৯৪, ব্রি—৯৩ ও ‘মুক্তা’ জাতের ধান চাষ করছেন। কৃষকরা জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও আগাম পরামর্শ পেলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমে উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
এদিকে জলবায়ুগত অনিশ্চয়তা ও আকস্মিক বন্যা এড়াতে অনেক কৃষক কৌশলগতভাবে কিছুটা দেরিতে রোপণ করছেন। ধর্মপাশার কুড়িকাহনিয়া গ্রামের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম শাহীন জানান, আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে দেরি করে রোপণ করলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতি কম হয়। তিনি এবার ব্রি—২২ ও স্থানীয় চাপালনি জাত বেছে নিয়েছেন।
কৃষিবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা বা তাপপ্রবাহের মতো অস্বাভাবিকতা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের স্বল্পমেয়াদি ও প্রতিকূলতাসহনশীল জাত চাষের পাশাপাশি ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’ ও ট্রেই প্রযুক্তিতে বীজতলা তৈরিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে আমন বীজ উৎপাদনে ছাতকের সফল মডেলকে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সরকারি সহায়তার সদিচ্ছা থাকলেও রয়েছে জনবল সংকট। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ২৬৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৪৮ জন কর্মকর্তা—কর্মচারী কর্মরত আছেন। এজন্য সীমিত জনবল নিয়ে পুরো জেলায় নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে আমন মৌসুমকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে। দোয়ারাবাজারের মাঝেরগাঁও গ্রামের শ্রমিক আব্দুল ছাত্তার ও আব্দুল মালেক জানান, জমি প্রস্তুত ও রোপণ কাজে দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে কাজ পেয়ে এই মন্দা মৌসুমেও তাঁদের সংসার নির্বাহ সহজ হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শতভাগ আশাবাদী। ভারী বৃষ্টির সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশন, সুষম সার ব্যবহার এবং রোগবালাই নজরদারিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জ ধানের জেলা। এখানে বোরো ও আমন—দুই মৌসুমেই ব্যাপক ধান উৎপাদন হয়। আমন মৌসুমে উৎপাদিত ধান বীজ সংরক্ষণের জন্য উপযোগী হওয়ায় আমরা স্থানীয়ভাবে বীজ উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। ইতোমধ্যে ছাতক উপজেলার একজন কৃষক বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সহায়তায় আমন ধানের বীজ উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন, যা জেলার জন্য ইতিবাচক উদাহরণ।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন