প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ২৩:২৮
দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহাসিক পান্ডারখাল বাঁধ এখন অস্তিত্ব সংকটে। বাঁধের দুই পাশে অবৈধভাবে ইট, বালু ও পাথরের স্তূপ এবং একাধিক স্টোন ক্রাশার গড়ে উঠায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, শুকিয়ে যাচ্ছে গাছপালা, বাড়ছে বাঁধ ধসে পড়ার ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাঁধের সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দেখার হাওরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি এলাকা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫১ বছর আগে নির্মিত পান্ডারখাল বাঁধের দুই পাশে বিশাল আকারে ইট, বালু ও পাথরের স্তুপ রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্টোন ক্রাশারও পরিচালিত হচ্ছে। ভারী মালামালের চাপে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে ধুলাবালু ও শব্দদূষণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালে দেখার হাওরসহ আশপাশের হাওরের বোরো ফসল রক্ষার জন্য এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। একসময় দুই পাশে সারিবদ্ধ গাছ আর মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নদী পান্ডারখালকে একটি মনোরম পর্যটনসদৃশ স্থানে পরিণত করেছিল। সরকারি উদ্যোগে নির্মিত বসার ছাউনিগুলোও ছিল দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে অবৈধ দখল ও বালু—পাথরের স্তূপে সেই সৌন্দর্য প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে অবৈধ দখল ও ভারী মালামাল সংরক্ষণ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ধসে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেখার হাওরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হতে পারে। বালু—পাথরের স্তূপের কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা দুর্ভোগ। স্থানীয় স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, আগে যেখানে অবসরে বসতো মানুষ, প্রকৃতি উপভোগ করতো, এখন সেখানে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাঁধ দখল ও পরিবেশ দূষণের বিষয়ে বহুবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও কয়েকদিন পর আবার আগের মতো ব্যবসা শুরু হয়ে যায়।
পথচারী মো. আমিন বলেন, ছাতক ও দোয়ারাবাজার থেকে সুনামগঞ্জে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাঁধটি এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রায়ই দুর্ঘটনাও ঘটছে।
দোহালিয়া ইউনিয়নের কলেজ শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, একসময় বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ওখানে গিয়ে ছবি তুলতাম। এখন চারদিকে শুধু বালু—পাথরের স্তূপ। সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, ঐতিহ্যবাহী পান্ডারখাল বাঁধ ধ্বংসের পথে। এটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন