প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৩
আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান --ছবি. সুখবর
অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই বিশেষ আইন করা হচ্ছে। দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং বিটিআরসি একসাথে কাজ করার জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থা তৈরি করছে। কিন্তু অনলাইন জুয়ার অনেক অ্যাপসের সার্ভার দেশের বাইরে অবস্থিত। দেশের বাইরে সার্ভার থাকায় বাংলাদেশ থেকে এগুলো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করা বেশ কঠিন। তবে সাইবার অপরাধ ও জুয়া বন্ধে পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা সাইবার ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। এই ইউনিটের মূল কাজই হবে দেশের ভেতর এই ধরনের অপরাধ সনাক্ত ও প্রতিরোধ করা। সরকার খুব দ্রুতই এটি চালু করতে যাচ্ছে। এটা হবে স্পেশাল সেগমেন্ট ফর দ্য পুলিশ। নথি অনুযায়ী দেশের ৮০—৮২ লাখ মানুষ মাদক গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরও বেশি। মাদকদ্রব্যের কারণে ৮০% ক্রাইম হচ্ছে। বছরে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা মাদকের পেছনে ব্যয় হয়। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদককে প্রতিরোধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল নুরুল।
.jpg)
সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আই এন্ড সিএম) রাখী রাণী দাস’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আয়েশা আক্তার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন।
বর্তমান সরকার আপনাদেরকে ভালো রাখতে চায়, একটা সুন্দর সমাজ এখানে তৈরি করতে চায় উল্লেখ করে ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, সমস্যা তো আমাদের, সমস্যা তো জাতির। সেক্ষেত্রে মাদকের মতো বড় সমস্যা সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। একজন শিক্ষক, একজন বাবা—মা, একজন মসজিদের ইমাম, একজন পলিটিশিয়ান, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন খেটে খাওয়া শ্রমিক— সবার অ্যাক্টিভ পার্টিসিপেশন দরকার।
ভার্চুয়াল জগতে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করা সময়ের অপব্যবহার উল্লেখ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আপনি তো হাওয়ার মধ্যে ঘুরছেন, ভার্চুয়াল জগতে ঘুরতেছেন। কিন্তু আপনার কাজ হলো নিজেকে ক্রিয়েটিভ করা।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তানদের স্কুলে, কোচিংয়ে, কলেজে পাঠাই আমরা। কিন্তু কখনো কি খবর নিয়েছি আমার ছেলে বা আমার মেয়ে কার সাথে ঘুরছে? আপনার আদরের সন্তান বিপথে যাচ্ছে কি না— আপনি দেখবেন না তো কে দেখবে?
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আয়েশা আক্তার বলেন, মাদককে নির্মূল করতে হবে, মাদককে না বলতে হবে। আজকের এই অনুষ্ঠানস্থল থেকে আমরা এই প্রতিজ্ঞা করতে পারি, সমাজে কোনোভাবেই মাদককে থাকতে দেব না। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশ আপনাদের পাশে আছে। আপনারা সকল প্রকার তথ্য দিয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করুন।
তিনি বলেন, যৌতুক কিন্তু একটা সামাজিক ব্যাধি। যৌতুক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। বাল্যবিবাহকে না বলতে হবে। এছাড়াও আমাদের সন্তানদেরকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলে ইভটিজিং প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এর আগে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অতিথিরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন