আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমবোলোর লাল কার্ড ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, জানাল আইএফএবি

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৯

সংগৃহীত ছবি 

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দেখানো লাল কার্ডটি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছে ফুটবলের নিয়মপ্রণয়নকারী সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড’ (আইএফএবি)। 

 

 

জুরিখভিত্তিক এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি রেফারিদের জন্য তাদের নীতিমালার ব্যাখ্যা প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়েছে, ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রোটোকল ব্যবহার করা নীতিমালার পরিপন্থী ছিল। 

 

 

কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে সুইজারল্যান্ড ১-১ সমতায় ফেরার ঠিক পরেই, ৭২তম মিনিটে ম্যাচের গতিপথ পুরো বদলে যায়। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে এক চ্যালেঞ্জের পর মাঠে পড়ে যান এমবোলো। শুরুতে পারেদেসকে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি। কিন্তু ভিএআর কর্মকর্তারা রেফারিকে জানান যে পারেদেস কোনো ফাউল করেননি, বরং এমবোলো ‘সিমুলেশন’ বা অভিনয়ের আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপর রেফারি পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করে এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। 

 

 

ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড নির্ধারিত সময় পর্যন্ত লড়াই বজায় রাখলেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়। পরবর্তীতে এই লাল কার্ডের ঘটনাটি তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। এমনকি এর আগের ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হওয়া মিশরও অভিযোগ তোলে—রেফারিরা লিওনেল মেসির দলকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছেন। 

 

 

সম্প্রতি আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিতর্কিত এই বিষয়টি স্পষ্ট করে আইএফএবি জানিয়েছে, ভিএআরের ‘ভুল শনাক্তকরণ’ ধারাটি শুধুমাত্র কোন খেলোয়াড় ফাউল করেছেন তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য প্রযোজ্য। অপরাধের ধরন পরিবর্তন বা প্রতিপক্ষকে সিমুলেশনের জন্য শাস্তি দিতে এই ধারা ব্যবহার করার কোনো এখতিয়ার বর্তমানে নেই। 

 

 

সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পেনালটি পাওয়া অপরাধটি কে করেছেন তা চিহ্নিত করতেই কেবল ভুল শনাক্তকরণ প্রোটোকল ব্যবহার করা যেতে পারে; মূল অপরাধটি পুনঃপর্যালোচনা বা পরিবর্তন করা যাবে না। ভবিষ্যতে হয়তো এই বিধিতে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রয়োগ করা যাবে না।’ 

 

 

ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেছিলেন, ‘রেফারি সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি জানি তারা তাদের রেফারিকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে, কিন্তু এই নিয়মটি আজ আমাদের ম্যাচটা ধ্বংস করে দিয়েছে। এভাবে একটি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ 

 

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ভিএআর প্রোটোকলের একটি পর্যালোচনা চলমান রয়েছে এবং আইএফএবি স্বীকার করেছে যে এমবোলোর এই ঘটনার মতো বিষয়গুলোও সেই পর্যালোচনার অংশ। আগামী ফেব্রুয়ারি বা মার্চে সংস্থাটির বার্ষিক সাধারণ সভায় ফুটবলের নিয়মাবলীতে নতুন কোনো পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। 
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি

খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার