প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০০:০৩
বাংলাদেশে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পিরানহা মাছের চাষ, উৎপাদন, পরিবহন, বাজারে বিক্রি এবং ক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালার অধীনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।। দেশের জলজ বাস্তুতন্ত্র ও দেশিয় মাছের নিরাপত্তার কারণে রাক্ষুসে মাছটি নিষিদ্ধ করে সরকার। দলবদ্ধ পিরানহা কয়েক মিনিটে একটি বড় প্রাণীকে কঙ্কাল বানিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
এমন ভয়ংকর নিষিদ্ধ মাছ বিক্রি হচ্ছে শহরের বাজারে। ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামেও। কম দামে পাওয়া যায় বলে কিনছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। আবার নতুন মাছ বাজারে এসেছে তাই মধ্যবিত্ত অনেকে শখ করে বাসায় নিচ্ছেন।
বিলপারের বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, শহরের মাছ বাজার থেকে প্রতিদিন মাছ কিনি। এই মাছটি নতুন দেখে আগ্রহ জন্মে। জিজ্ঞেস করলে ব্যবসায়ী জানান রূপচাঁদা মাছ। কিনে বাসায় নিয়ে অর্ধেক রান্না হয় আর অর্ধেক ফ্রিজে রাখি। খাওয়ার পর ঘরের মানুষ জানায় এটা নিষিদ্ধ মাছ। পরে রান্না করা তরকারিসহ ফ্রিজিং মাছ ফেলে দেই।
এই ক্রেতার সূত্র ধরে সুনামগঞ্জ পৌর কিচেন মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় ইলিশের পাশেই রূপচাঁদা নামে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা। দেখতে অনেকটা রুপচাঁদার আকৃতির হওয়ায় সহজে বিশ্বাস করছে মানুষ। একজন বিক্রেতার কাছে বিক্রিকালে এই প্রতিবেদক মাছের নাম জিজ্ঞেস করতে রূপচাঁদা হিসেবে পরিচয় দেন। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে এটা রূপচাঁদা নয় দাবি করলে পিরানহা বলে স্বীকার করেন। তবে সবাই রূপচাঁদা নামে নেয় তাই রূপচাঁদা বলেছেন জানিয়ে বললেন, এগুলো বাইরের জেলা থেকে সুনামগঞ্জে আসে।
এই তথ্য নিয়ে ওয়েজখালি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে পাওয়া যায় সেই মাছ। নিলামে খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি হচ্ছে পিরানহা। এখান থেকেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় যায় নিষিদ্ধ মাছটি।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আল—মিনান নূরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পিরানহা উৎপাদন, চাষ, বিপণন সবকিছু নিষিদ্ধ। তবে তিনি সদ্য বদলি হয়েছেন বর্তমানে একজন অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। উনাকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলবেন।
যেভাবে চিনবেন পিরানহা
১. পিরানহা মাছের তীক্ষ্ণ দাঁত দেখা যাবে। অনেকটা মানুষের দাঁতের মতো।
২. এই মাছের কানকো থাকে। রূপচাঁদা মাছের কানকো মেশানো থাকে।
৩. পিরানহা মাছের লেজের কাছে ছোট আরেকটি পাখনা বা এডিপোজ পাখনা থাকে। রূপচাঁদা মাছের এমন কোনও পাখনা নেই।
৪. পিরানহার গায়ের রং কিছুটা লালচে ও ধুসর বর্ণের হয়। রূপচাঁদার মতো চকচকে থাকে না।
৫. পিরানহা মূলত স্বাদু পানির মাছ। রূপচাঁদা সামুদ্রিক মাছ।
৬. জীবিত পিরানহা মাছের স্বভাব রাক্ষুসে প্রকৃতির। রূপচাঁদা অনেক নিরীহ মাছ।
৭. পিরানহার রয়েছে ছোট শক্তিশালী চোয়াল। এর দুই পাটিতে ত্রিশূলের মতো দাঁত রয়েছে, যা এতটাই ধারালো যে শিকারের দেহ এক নিমেষে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন