প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০০:১১
চার বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাতক—সুনামগঞ্জ সড়ক। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কের দুটি সেতু ভেঙে পড়ার পর আজও সেগুলো পুননির্মাণ না হওয়ায় লাখো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রম্নতি মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
ছাতক, দোয়ারাবাজারসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের জন্য এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কিন্তু সেতু দুটি ধসে পড়ার পর থেকে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে গোবিন্দগঞ্জ হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে সুনামগঞ্জে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময়, পরিবহন ব্যয় ও ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
দোহালিয়া, পান্ডারগাঁও ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের হাজারো শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগীএবং পরিবহন চালক প্রতিদিন এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হচ্ছে, ব্যবসা—বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—চার বছরেও কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই সেতু পুননির্মাণ করা সম্ভব হলো না?
গাড়িচালক করিম বলেন, চার বছর ধরে এই সড়কের দুর্ভোগ আমরা প্রতিদিন ভোগ করছি। দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে এবং যাত্রীদের নানা অভিযোগ শুনতে হচ্ছে। দ্রুত সেতু নির্মাণ না হলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
স্কুলছাত্রী মারিয়া বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক বেশি সময় লাগে। আগে খুব সহজেই যাতায়াত করা যেত, এখন ঘুরপথে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ লাগছে। অনেক সময় ক্রেতার কাছে সময়মতো মাল পৌঁছানো সম্ভব হয় না। দ্রুত সড়ক ও সেতুর কাজ শেষ করা প্রয়োজন।
সমাজসেবক সালাহ উদ্দিন সুমন বলেন, ছাতক—সুনামগঞ্জ সড়ক এই অঞ্চলের মানুষের জীবনরেখা। চার বছর ধরে দুটি সেতু ভেঙে পড়ে থাকলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, দুটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি বিলম্বিত হয়েছে। নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুত আবার নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন