টাঙ্গুয়ার হাওর

হুমকিতে পরিবেশ কমছে জীববৈচিত্র্য

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৩৫

এক পাশে মেঘালয়ের পাহাড়, অন্য পাশে হিজল—করচের বন আর দিগন্তজোড়া স্বচ্ছ জলরাশি—প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে্যর আধার দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে ঘুরতে এলেও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এখন এই জলাভূমির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে হাউজবোট বৃদ্ধি, তীব্র শব্দদূষণ, প্লাস্টিক ও মানববর্জ্যের যথেচ্ছ ফেলা এবং দিন—রাত জেনারেটরের ব্যবহারে হাওরের পরিবেশ ও চরম জীববৈচিত্র্য সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ—ছয় বছর আগেও টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোটের সংখ্যা ছিল শতাধিক। বর্তমানে বিভিন্ন সূত্রে এ সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরে।

 


এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএর ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান জানান, সুনামগঞ্জ থেকে হাউজবোট এর রেজিষ্ট্রেশন দেওয়া হয় না। বাংলাদেশের ৭ টি জায়গা থেকে হাউজবোট রেজিষ্ট্রেশন করার সুযোগ আছে। যেহেতু বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই রুটে চলাচলের জন্য পারমিট দেওয়া হয়। ফলে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঠিক কতটি হাউজবোট নিয়মিত চলাচল করছে, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বর্তমানে বলা সম্ভব নয়। আর আমরা শুধু সার্ভে ও পরিদর্শন করি।

 


অন্যদিকে হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে চলাচলকারী আমাদের আওতাধীন সব হাউজবোটকে আমাদের সংগঠন  নিবন্ধনের আওতায় এনেছে। কিছু বোট এখনো নিবন্ধন পায় নি তবে এগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  এ বছরে হাওরে ২০০টি তার কিছু বেশি হাউজবোট রয়েছে। প্রতিটি বোটে আমরা পর্যটকদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় প্লাস্টিক ব্যবহার না করার জন্য নিয়মিত অনুরোধ করি। ট্যাকেরঘাটে যেখানে রাতে বোট রাখা হয়, সেখানে নিয়মিত পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও পালন করা হয়। জেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ নিবন্ধিত বোট এসব নির্দেশনা মেনে চলে। কিন্তু অন্য জেলা বা উপজেলা যেমন মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ আরও কিছু এলাকা থেকে যেসব অনিবন্ধিত নৌকা আসে, সেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সবাইকে একই নিয়মের আওতায় আনা গেলে পরিবেশ রক্ষা করা সহজ হবে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটা ডাম্পিং স্টেশন চেয়েছি সেটা পেয়ে গেলে মানববর্জ্য নিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে তাও সমাধান হবে।
তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর। ২০০০ সালের ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি হিসেবে এটি রামসার সাইটের স্বীকৃতি পায়। হাওরটি মিঠাপানির মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও দেশি—বিদেশি পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। তবে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন ও পরিবেশ দূষণ এই জলাভূমির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।


পর্যটন মৌসুমে দেখা যায়, হাওরের বিভিন্ন অংশে সারি সারি হাউজবোট অবস্থান করছে। অনেক নৌকায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছে, রাতভর জেনারেটর চলছে এবং অনেক বোটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, গ্লাস ও প্লেট পানিতে ভাসছে, আবার কোথাও গাছের সঙ্গে নৌকা বেঁধে রান্নাবান্না করা হচ্ছে।

 


হাউজবোট মালিক অমিত রায় বলেন, পর্যটক বাড়ছে বলেই হাউজবোট বেড়েছে। এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু কিছু অসচেতন মালিক ও পর্যটকের কারণে পুরো খাতের বদনাম হচ্ছে। সরকার যদি হাউজবোটের একটি নির্দিষ্ট সীমা ঠিক করে, নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে পর্যটনও চলবে, পরিবেশও রক্ষা পাবে।

 


ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা পর্যটক ইলহাম কবির বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। কিন্তু অনেক নৌকায় এত জোরে গান বাজানো হয় যে প্রকৃতির পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে যায়। একটা সাউন্ডবক্স হলেও মানা যেত, কিন্তু অনেক বোটে ৪—৫টি সাউন্ডবক্স ও মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে। পাহাড়, পানি আর পাখির শব্দ শোনার জন্য এখানে এসেছিলাম, উচ্চশব্দের গান শোনার জন্য নয়।

 


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নীলুফা ইয়াসমিন বর্ণা বলেন, অনেকেই প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট পানিতে ফেলে দেন। এটা খুবই দুঃখজনক। টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু ভ্রমণের জায়গা নয়, এটি একটি সংরক্ষিত জলাভূমি। এখানে ঘুরতে এসে পরিবেশের ক্ষতি করলে ভবিষ্যতে এই সৌন্দর্য আর থাকবে না। আমরা যে জায়গাটা এত শখ করে ঘুরতে আসলাম, সেই জায়গাটা পরিচ্ছন্ন রাখাটাও আমাদের দায়িত্ব।


স্থানীয়দের মতে, টাঙ্গুয়ার হাওরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শত শত মানুষের জীবিকা। হাউজবোট, মাঝি, গাইড, স্থানীয় বাজার, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট নানা খাত এই জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল। তাই পর্যটন বন্ধ করা সমাধান নয়, আবার নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটনও টেকসই হতে পারে না। নৌযানের সংখ্যা বাড়ার ফলে শুধু শব্দদূষণ নয়, মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননেও প্রভাব পড়ছে।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, হাউজবোটের সংখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণ, সব নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, একক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, শব্দদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ মাছ শিকার ও পাখি নিধনের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। কারণ টাঙ্গুয়ার হাওরের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রাকৃতিক পরিবেশ। সেই পরিবেশ রক্ষা করা গেলে তবেই টিকে থাকবে পর্যটন এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকাও।

 


মধ্যনগর উপজেলার সানুয়া গ্রামের প্রবীণ জেলে জয়চরণ বর্মন বলেন, আগে তো এখানে নৌকার সঙ্গে এসে চিতল মাছ ধাক্কা খেত। এখন জাল ফেলেও পাওয়া যায় না। আগে সারা বছর মাছ মিললেও এখন আর তা নেই। গত কয়েক বছরে দ্রুত কমেছে মাছের উৎপাদন। কারণ হাওরে ইঞ্জিন নৌকার শব্দে মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। এতে মাছের বংশ বৃদ্ধি হয় না।

 


মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাউজবোটের অবাধ চলাচল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণের অভাব টাঙ্গুয়ার হাওরে মাছের প্রজননের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির কারণে মাছের বিভিন্ন প্রজাতির পাশাপাশি পাখির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। কাগজে—কলমে নানা বিধিনিষেধ থাকলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। একারণে টাঙ্গুয়ার হাওর ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। তবে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ ও পর্যটন, উভয়ই রক্ষা করা সম্ভব। স্থানীয় মানুষের জীবিকার কথা বিবেচনায় রেখে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের কৃষক লতিফ উদ্দিন বলেন, ধানের জমিতে এখন প্রায়ই প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেট, বোতল আর ভাঙা কাচ পাওয়া যায়। অনেক সময় ভাঙা কাচে পা কেটে যায়। এসব বর্জ্য জমিরও ক্ষতি করছে। আগের মতো ফলনও হয় না। যারা হাওরে ঘুরতে আসে তারা তো ঘুরে চলে যায়, কিন্তু আমাদের ক্ষতি করে যায়।

 


ট্যাকেরঘাট এলাকার জেলে ইকবাল মিয়া বলেন, আগে এই হাওরে অনেক রকম মাছ পাওয়া যেত। এখন দুই—তিন জাত ছাড়া তেমন মাছ নেই। সারাদিনই হাওরে নৌকা চলে। মাছ ধরার জন্য উপযুক্ত জায়গা কমে যাচ্ছে। আবার যেদিকে নৌকা চলাচল করে না, সেদিকে অনেক সময় আমরা গিয়ে মাছও ধরতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, শুধু পর্যটক আর নৌকার জন্য যে মাছ কমছে তা নয়। রাতের আঁধারে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। ছোট মাছ, ডিমওয়ালা মাছ কিছুই রক্ষা পায় না। একই সঙ্গে চলছে পরিযায়ী পাখি শিকার। এতে প্রতিবছরই কমছে মাছ ও অতিথি পাখির সংখ্যা।

 


পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের ধারণক্ষমতার তুলনায় এখন অনেক বেশি হাউজবোট চলাচল করছে। হাওরে কতগুলো হাউজবোট চলাচল করলে পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়বে না, সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমরা দেখছি অনেক বোটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে, কিছু বোটে রাতভর জেনারেটর চলে এবং অনেক ক্ষেত্রে মানববর্জ্যও সরাসরি হাওরের পানিতে ফেলা হচ্ছে। এগুলো পানির গুণগত মান ও পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এখনই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না আনলে বিখ্যাত এই জলাভূমি তার পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য হারাবে।

 


সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)—এর সদস্য দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, বন বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যারা নিয়ম ভাঙবে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনটা না করা হলে টাঙ্গুয়ার হাওর ও পর্যটন দুটোই ধ্বংস করে ফেলব।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক জানান, হাউজবোটের সংখ্যা কতটা তা বলা যাবে না। যেহেতু টাঙ্গুয়ার হাওর পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা তাই এই এলাকায় কতটা হাউজবোট চলবে বা কতজন পর্যটক দিনে  যেতে পারবে এ নিয়ে  আমরা কাজ করছি।

 


তিনি আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষায় সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যাবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি পাশাপাশি  ১১ টি নির্দেশনাও দিয়েছে। গুটি কয়েক হাউজবোট সেটি মানছে না। আমরা এর জন্য লিফলেট বিতরণসহ মৌখিকভাবেও বলছি। এরপরেও যদি কোনো বোট বা পর্যটক এসব অমান্য করবে তখন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। 
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, হাওরে কতটা হাউজবোট চলছে বা চলাচল করবে তা এখনো নির্ধারণ করা যায় নি। তবে আমরা ৩ টি হাউজবোট সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সাথে কথা বলেছি দ্রুতই আমরা এদের নিবন্ধন এর আওতায় নিয়ে আসবো। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় অভয়াশ্রম এলাকায় পর্যটকবাহী নৌকা প্রবেশ না করতে এবং হাওরের গাছে নৌকা না বাঁধতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
তিনি আরও বলেন, মানববর্জ্যসহ বিভিন্ন বর্জ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ইতোমধ্যে আমরা জায়গা নির্ধারণ নিয়ে কথা বলছি খুব দ্রুতই আসলে জায়গা নির্ধারণ করে ডাম্পিং স্টেশনের কাজটি শুরু করা হবে তখন টাঙ্গুয়ার হাওরের বর্জ্য দুষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার