ময়ুর-মোহে টাঙ্গুয়া ভ্রমণ

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪৮

বিশাল ওপেন লাউঞ্জ, হাঁটা—চলার লবি, আলোকসজ্জা আর ডেকোরেশনে সুসজ্জিত কামরা, ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ, সাথে এসি। এটাচ বাথরুমে শাওয়ার, বেসিন, হাই কমোড, বাচ্চাদের জন্য সুইমিং পুল। সবুজ ঘাসে মোড়ানো রুফটপে বুফের ডাইনিংয়ে বসে পাহাড় আর নীল জলরাশি উপভোগ করতে করতে দুপুরের খাবার। রুমের সাথে বেলকনি, ভেতরে শুয়ে শুয়ে হাওরের চলন্ত দৃশ্য উপভোগ। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা। কি নেই এখানে!


ভেতরে যেমন বিলাসিতা তেমনি বাইরে থেকে দেখলেও মনে হবে যেন, হাওরে পানির উপর ভেসে বেড়াচ্ছে ফাইভ স্টার মানের বিলাসবহুল/লাক্সারি হোটেল। প্রিয়জন কিংবা পরিবার নিয়ে বিশেষ মূহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে চোখের সৌন্দর্য আর মনের প্রশান্তির জন্য তৈরি করা এমন আবাসন হার মানাবে ইট—পাথরের ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার বিলাসিতাকেও।

 

 

 

 

 


রিমঝিম বৃষ্টির বর্ষায় হাওর ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ। ভারতের পাহাড় বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ নীল জল আর তার মাঝখানে মাথা তুলে দাঁড়ানো হিজল—করচের সৌন্দর্য উপভোগ করতে টাঙ্গুার হাওরে নেমেছে পর্যটকের ঢল। বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন হাওরে ভেসে বেড়ানো বিলাসবহুল হাউজবোটগুলো। হাওর, নদী, পাহাড়, ঝর্ণা, ফুলের বাগান এক নৌ ভ্রমণেই মিলছে সব দেখার সুযোগ।
ভরা বর্ষায় নীল পাহাড় বেয়ে আসা ঝর্ণার স্বচ্ছ পানির রূপমোহ নিয়ে ময়ূরের ন্যায় টাঙ্গুয়ার হাওরমেলে ধরেছে তার অপার সৌন্দর্যে্যর পেখম। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ছুটে আসছেন হাজারো পর্যটক। ভ্রমণপিয়াসীদের নিয়ে হাওরে ময়ূরপঙ্খীর মতো ভেসে বেড়াচ্ছে এমন শতাধিক পর্যটকবাহী হাউজবোট।

 


ঢাকা থেকে আসা চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচ বন্ধু টাঙ্গুয়ার হাওর এসে যেন ফিরে গিয়েছিলেন শৈশবে। একসাথে বসে গল্প, খাবার দাবার আর হাওরের পানিতে সাঁতার কেটে কাটিয়েছেন দিন। বোটে উঠার সময় সকাল ৮ টা থাকলেও ঢাকা থেকে আসার পথে সড়কে ভোগান্তিতে সুনামগঞ্জ পৌছান বেলা ১টায়। দীর্ঘ ভ্রমণে মলিন মুখ নিয়ে বোটে উঠার পর মানসিক শান্তি ফিরে পান তারা। 


এই দলের আজগর আলী বলেন, সারারাত কেটে গেছে জ্যামে। সকালে গাড়ির চাকা ঘুরেছে। ৭ টায় সুনামগঞ্জে পৌঁছানোর কথা থাকলে পৌছেছি বেলা ১ টায়। দীর্ঘ ভ্রমণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে গিয়েছিল। বোটে উঠে খাবার দাবার খেয়ে যখন হাওরের প্রকৃতি দেখলাম মনে হলো শ্রেষ্ঠ সময় কাটাচ্ছি। টাঙ্গুয়ার হাওর আর তার পরিবেশ শোনার চেয়ে বেশি সুন্দর।

 

 

 

 

 

 


যশোর থেকে আসা দেবী বলেন, পুরো পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। মোবাইলে আর টিভিতে টাঙ্গুয়ার হাওর দেখেছি। বাস্তবে এসে তার চেয়েও সুন্দর পেয়েছি। সবাই একবার হলেও টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে দেখে যান।
দ্যা আর্ক হাউজবোটের মালিকপক্ষ ও পরিচালক অমিত রায় বলেন, একসময় হাওরে শুধু ট্রলার চলতো। দিনে দিনে পর্যটকদের চাহিদার কারণে হাউজবোটগুলো উন্নত হচ্ছে। আমাদের বোটের মতো অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত শত শত হাউজবোট এখন টাঙ্গুয়ার হাওর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যেখানে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, এসি, সুসজ্জত রুম সহ ত্রি—স্টার থেকে ফাইভ স্টার হোটেলের মানের নানা আধুনিক সুযোগ সুবিধা রাখা হয়েছে পর্যটকের জন্য। সৌন্দর্যে্যর সাথে আছে নানা ভোগান্তি। হাওরের পর্যটন বিকাশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।


নোয়াখালি থেকে তরুণদের আরেকটি দল জানালেন, ঢাকা টু সুনামগঞ্জের রাস্তা অনেক খারাপ ছিল। আমরা যেহেতু ফ্রেন্ডস স্টাফ এসেছি তাই সড়কপথে ট্যাকেরঘাট হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এসেছি। এই রাস্তা আরও বেশি খারাপ। সুনামগঞ্জের পর্যটনকে উন্নত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ করতে হবে।


পরিবেশ রক্ষায় ডাম্পিং স্টেশন, জেটি নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার