চিনি গুঁড়া চালের মূল্য চড়া

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪১

বিপাকে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা

সংগৃহীত ছবি

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চিনি গুঁড়া (পোলাওয়ের) চালের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসিআই, পুষ্টি, স্কয়ারসহ বেশ কয়েকটি শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানির প্যাকেটজাত চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কাঁচামালের দাম কিছুটা বাড়লেও খুচরা বাজারে চালের দর যেভাবে বেড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন হোটেল—রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত ভোক্তারা।

 


পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গেল ২৫ মে এসিআই কোম্পানির ২৫ কেজির এক বস্তা চিনির গুঁড়া চালের দাম ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা। গত ২৩ জুলাই একই বস্তা বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। অন্যদিকে, গত ২৫ মে ‘বাবুচি’ ব্র্যান্ডের ২৫ কেজির বস্তার দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায় (বৃদ্ধি প্রায় ৬৫০ টাকা)।
খুচরা বাজারে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। বর্তমানে বাজারে বাবুচি ব্র্যান্ডের চিনির গুঁড়া চাল প্রতি কেজি ১৪২ টাকা এবং এসিআই ব্র্যান্ডের চাল কেজিপ্রতি ২০৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 


এছাড়া মোজাম্মেল, এরফান, অ্যারোমেটিক, স্কয়ারের ‘চাষী’, প্রাণ ও পুষ্টিসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডের পোলাওয়ের চালের দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে। কিছুদিন আগে এসব চাল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, দুই মাস আগে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মজুমদার গিবুক ব্র্যান্ডের চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ টাকায়।


শহরের জেল রোড এলাকার ‘সুধাংশু অ্যান্ড সন্স’ এবং ‘মেসার্স রাজু ট্রেডার্স’—এর স্বত্বাধিকারীসহ একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, চিনি গুঁড়া চালের প্রধান ক্রেতা মূলত হোটেল, রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মিষ্টির দোকানগুলো। তবে সাধারণ মানুষও বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা প্রয়োজনে এ চাল কিনে থাকেন। ফলে চালের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবার ওপরই পড়ছে।

 


বাজার ঘুরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাজারে পোলাও চালের দর আকাশচুম্বী হলেও অন্যান্য সাধারণ জাতের চালের দামে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
হঠাৎ দাম বাড়ার বিষয়ে পুষ্টি কোম্পানির প্রতিনিধি জাহিদ হোসেন জানান, বাজারে চিনি গুঁড়া চালের সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে দাম বেড়েছে। 


তবে বিষয়টি মানতে নারাজ রেস্তোরাঁ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। শহরের শাহি রেস্টুরেন্টের মালিক শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অস্বাভাবিকভাবে পোলাও চালের দাম বেড়েছে। চালের দাম বাড়লেও আমরা তো রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম হুট করে বাড়াতে পারি না। এতে ব্যবসা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেন হঠাৎ এত দাম বাড়ল, তাও আমাদের জানা নেই।

 


পারিবারিক প্রয়োজনে বাজার করতে আসা গৌরারং এলাকার বাসিন্দা শহিদ মিয়া বলেন, বাড়িতে মেহমান এসেছে বলে পোলাও চাল কিনতে হলো। বাজারে এসে দেখি ভালো মানের চিনির গুঁড়া চাল ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। এক মাস আগেও এত দাম ছিল না। হঠাৎ করে কেন এই চালের দাম বাড়ল তা বুঝতে পারছি না। সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে বাজারে সরকারি তদারকি জোরদার করা জরুরি।
মল্লিকপুর উপজেলা মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, তিন মাস ধরে ধাপে ধাপে পোলাও চালের দাম বাড়ছে। কিছুদিন আগে যে চাল ১৩০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন, বর্তমানে তা ২৩০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। দাম বৃদ্ধির কারণ কোম্পানির লোকজনই ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 


সামগ্রিক বিষয়ে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আহমদ আসিফুর রব বলেন, সারা দেশেই চিনি গুঁড়া চালের দাম কিছুটা বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বাজারে কোনো অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে কিনা, তা আমরা নিবিড়ভাবে তদারকি করছি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজারে তদারকি বাড়িয়ে প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার