প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪২
দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্যামারগাঁও ভাঙা এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় দুই যুগ ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে পানি চলাচলের স্থায়ী খালে পরিণত হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্যামারগাঁও ভাঙা এলাকার এই সড়কটি বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কৃষিকাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা—বাণিজ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাজে প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। পাহাড়ি ঢলের প্রবল ে¯্রাতে সড়কটি ভেঙে গিয়েছিল। পরে ভাঙা অংশটি ধীরে ধীরে স্থায়ী খালে রূপ নেয়। বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিটি নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা এখানে একটি ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রম্নতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রম্নতি আর বাস্তবায়ন হয় না। এ কারণে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে একাধিক স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন শিক্ষক—শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা—নেওয়া এবং দৈনন্দিন চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, ওই সময় শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির উদ্দিন বলেন, শ্যামারগাঁও ভাঙা শুধু নরসিংপুর ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের পথ নয়, এটি দোয়ারাবাজার উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। এই পথ দিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত শ্রমিক প্রতিদিন সিলেটের ভোলাগঞ্জ ও উৎমাছড়া এলাকায় কাজের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন। কিন্তু একটি সেতুর অভাবে সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। দ্রুত এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, শ্যামারগাঁও ভাঙা এলাকায় দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল হামিদ বলেন, সরেজমিনে গিয়ে এলাকাটি পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন